স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে সরকার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে। ঘোষণা করেছে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে একাধিকবার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মহানগরীর সরকারি-বেসরকারি অধিকাংশ অফিস ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ অনেক স্থানেই মানা হচ্ছে না এ নির্দেশনা। ফলে দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা, আতঙ্ক। গত ২৮ অক্টোবর ‘করোনা সংক্রমণের সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক একটি নির্দেশনা জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গত ২৫ অক্টোবর ‘করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় মাস্ক ব্যবহার’ শীর্ষক এক নির্দেশনা জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত ২২ অক্টোবর স্বাস্থ্যসচিবও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’, ‘মাস্ক পরিধান করুন সেবা নিন’, শীর্ষক নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। কিন্তু সরকারি এ নির্দেশনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক না পরলে নাসিকে কাউকে সেবা দেওয়া হচ্ছে না। জেলা প্রশাসন বলছে, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে এবং নিয়মিতভাবে অসচেতনদের জরিমানা করা হচ্ছে। সেবাদাতা ও গ্রহীতা সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।’ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছে। করোনা মোকাবিলায় মাস্ক পরার কোনো বিকল্প নেই, বিধায় সর্বস্তরে মাস্ক পরিধান করতে বাধ্য করা হবে।’ অথচ সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়া, জেলা প্রশাসন কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া), রেল স্টেশন, বিভিন্ন মার্কেট, গণপরিবহনসহ বিভিন্ন স্থানে অনেকেই মাস্ক পরছেন না। জেনারেল হাসপাতালে দেখা যায়, চিকিত্সক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাস্ক পরলেও রোগী ও স্বজনদের অনেকেই উদাসীন। আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের অধিকাংশ মাস্ক ব্যবহার করলেও কিছু আইনজীবী ও তাদের সহকারীদের দেখা গেছে মাস্ক ছাড়াই।
