চট্টগ্রামের ব্যস্ততম সড়কের অর্ধেক থাকে অবৈধ দখলে

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২০, ২৩:০৭

গত কয়েক বছরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কোনো কোনো সড়ক ছয় লেন, কোনো কোনোটি চার লেন হয়েছে। কিন্তু এর সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। কারণ বর্ধিত সড়কের অর্ধেক দখল হয়ে গেছে।  সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং হচ্ছে। সড়কে স্ট্যান্ড বসিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করা হচ্ছে। এছাড়া ভাসমান বিভিন্ন পণ্যের দোকানে সড়ক দখলে থাকে। এতে ব্যস্ততম স্থানে নিত্য যানজট লেগে থাকে, সৃষ্টি হয় জনভোগান্তি। অভিযোগ রয়েছে, সড়কের ওপর এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে কিছু রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ প্রশাসন আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।

বহদ্দারহাট থেকে কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত সড়কটি সম্প্রতি ছয় লেনে উন্নীত করা হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা আশা করেছিল দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসন হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পরিবহন মালিকরা সড়কের ওপর বাসস্ট্যান্ড বসিয়ে যাত্রী উঠাচ্ছে-নামাচ্ছে। একটি আন্তঃজেলা টার্মিনাল থাকলেও বাসগুলো সেই টার্মিনাল ব্যবহার করছে না। দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী বাসের জন্য বহদ্দারহাটসংলগ্ন এলাকায় একটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল রয়েছে। সড়কের চান্দগাঁও থানা থেকে ৪০০/৫০০ মিটার দূরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের অবস্থান। কিন্তু টার্মিনালটি খালি পড়ে রয়েছে। তার পরিবর্তে কক্সবাজারমুখী কোচগুলো চান্দগাঁও থানার সামনে স্ট্যান্ডে যাত্রী পরিবহন করছে। সড়কের ওপরেই চলে গাড়ির পার্কিং। এতে ব্যস্ততম এই স্থানে নিত্য যানজট সৃষ্টি করছে। এটি নিয়ে সচেতন মানুষ প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কর্ণফুলী সেতু এলাকায়ও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সেতুর উত্তর পাশে শহর অঞ্চলে সড়কের অর্ধেকের বেশি জায়গা জুড়ে থাকে বাসের পার্কিং ও অবৈধ স্ট্যান্ড। দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া এলাকার বাসগুলো সড়কের ওপর স্ট্যান্ড বসিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে। বাসমালিকরা পুলিশ প্রশাসনের যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবত্ সড়কের ওপর এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ চলাকালীন এখানে সাময়িকভাবে সেতু এলাকায় যানবাহন পার্কিং করে যাত্রী পরিবহনের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও বাসগুলো সড়কের ওপর থেকে তাদের অবস্থান ছাড়ছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিএমপির উপ-কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে কিছু সমস্যা রয়েছে। সিডিএ সেখানে সংস্কার কাজ করছে। বাসমালিক সমিতির সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। সড়কের ওপর কোনো বাসস্ট্যান্ড থাকতে পারবে না।

বহদ্দারহাট সিডিএ আঞ্চলিক বাস টার্মিনাল সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইউনূস ইত্তেফাককে বলেন, আমরা সিডিএ থেকে এক বছরের জন্য ২১ লাখ টাকা দিয়ে টার্মিনাল ইজারা নিয়ে থাকি। কিন্তু টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নালাগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় টার্মিনালে পানি জমে থাকে। ৪০/৪৫টি পরিত্যক্ত বাস টার্মিনালে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। টার্মিনালটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টার্মিনাল সংস্কারের জন্য সিডিএর কাছে দাবি জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’

এছাড়া নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলো যানজট নিরসনের জন্য সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নগরীর বহদ্দারহাট মোড়, বাব সিরাজদ্দৌল্লা সড়কের চকবাজার, সাবেরিয়া, বক্সিবিট, আন্দরকিল্লা, কোতোয়ালি মোড়, নিউ মার্কেট মোড়, স্টেশন রোড, জিইসি মোড়, মুরাদপর, দুই নম্বর গেইট, দেওয়ানহাট, বাদামতলী, বন্দরটিলা, অলংকার মোড়, এ কে খান গেইট, অক্সিজেন মোড়ে তরিতরকারি, ফলমূলসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে ভাসমান দোকানে সয়লাব হয়ে গেছে। পাশাপাশি সড়কে সিএনজি অটোরিকশা, বাস, ট্রাক, বাণিজ্যিক কার ও মাইক্রোবাসের পার্কিং যানজট বাড়িয়ে দিয়েছে। এভাবে সড়কে অর্ধেক জায়গা অবৈধ দখলে থাকায় সম্প্রসারিত সড়কের সুফল পাচ্ছে না মানুষ।