খুলনা বিভাগে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২০, ২৩:০৮

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

চলতি আমন সংগ্রহ অভিযানকালে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ২৭ হাজার ১৮৭ টন ধান ও ৮২ হাজার ৯৫৪ টন

সেদ্ধ ও ৩ হাজার ৭৮৭ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তবে সরকারি সংগ্রহ মূল্যের চেয়ে খোলা বাজারে ধান চালের দাম বেশি থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খুলনা বিভাগের খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের সহকারী পরিচলক মো. আব্দুস সোবহান জানান, ১৫ নভেম্বর থেকে সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহ মূল্য ২৬ টাকা ধার্য করা হয়েছে। সেদ্ধ চাল প্রতি কেজির সংগ্রহ মূল্য ৩৭ টাকা এবং আতপ চালের সংগ্রহ মূল্য ৩৬ টাকা ধার্য করা হয়েছে। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে আমন ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। হাটবাজারগুলোতে আমন ধানের আমদানি বেড়েছে। তবে দাম চড়া। প্রতি মণ মোটা ধান ১ হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত দরে কেনাবেচা চলছে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে কিন্তু ধানের দাম চড়া থাকায় চাষি সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান বিক্রিতে আগ্রহী হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর চাল কেনা হবে চাল কল মালিকদের কাছ থেকে। খাদ্য অধিদপ্তর মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করবে। বর্তমানে মোটা চাল প্রতি কেজি ৪১ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের চাষি মাসুদ হাসান পান্না জানান, মোটা ধান ১ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। আর চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা মণ দরে।

ঝিনাইদহ রাইস মিল মালিক সমিতির সম্পাদক বিকাশ বিশ্বাস জানান, ধান ওঠার পর বাজার চড়া। প্রতি মণ মোটা ধান ১ হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা চাল নিচে প্রতি কেজি ৪১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দামে চাল কিনে সরকারি গুদামে সরবরাহ করলে কেজি প্রতি অন্তত ৬ টাকা করে লোকসান হবে। অর্থাত্ টন প্রতি লোকসান হবে ৬ হাজার টাকা। যে কারণে রাইস মিল মালিকরা সরকারের সঙ্গে চাল সরবরাহের চুক্তি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বোরো ধান চাল সংগ্রহ অভিযানকালে প্রথম দিকে মোটা চালের প্রতি কেজির দাম ছিল ৩৮-৩৯ টাকা। প্রথম দিকে যারা চাল সরবরাহ করেছিল তাদের কেজিতে ৩-৪ টাকা করে লোকসান হয়েছিল। পরে চালের দাম ৪২-৪৩ টাকা কেজি হয়। সংগ্রহ অভিযানের শেষদিকে প্রশাসনের অনুরোধে চাল সরবরাহ করে মিল মালিকেরা। তাদের কেজিতে ৬-৭ টাকা করে লোকসান হয়।

বিভাগীয় খাদ্যনিয়ন্ত্রক অফিসের সহকারী পরিচালক আব্দুস সোবহান জানান, তারা বিভিন্ন এলাকায় খবর নিয়ে জেনেছেন, নতুন ওঠা প্রতি মণ মোটা ধান ৯৮০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রয় কেন্দ্রগুলোতে আদ্রতাযুক্ত ধান চাল কেনা হয় না।