যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাসহ নেতারা। নাভাদায় ফল সত্যায়িত করার সার্টিফিকেট স্থগিত করতে ট্রাম্প শিবিরের মামলা নাকচ করে দিয়েছে আদালত। এর ফলে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আগামী ২০ জানুয়ারি শপথের নিশ্চয়তা বাড়ছে। আর ট্রাম্পের ওপর হার মানার চাপ বাড়ছে। খবর সিএনএনের
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট এবং ৬০ লাখের বেশি পপুলার ভোট পেয়েছেন। তারপরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরাজয় মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। তার দাবি ভোটে ব্যাপক জালিয়াতি ও কারচুপি হয়েছে। যদিও কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। ট্রাম্প বাইডেনের জয় ঠেকাতে আদালত, প্রশাসন এবং সর্বশেষ নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদেরও কাজে লাগাচ্ছেন।
রিপাবলিকানরাও মুখ ফেরাল
বাইডেনকে স্বীকৃতি দেয়নি জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে স্বীকৃতি দেননি। এবার তিনি বিভিন্ন রাজ্যের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে শুক্রবার মিশিগান রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে বৈঠক করেছেন। তিনি চেয়েছেন, তারা যেন বাইডেনের জয়কে স্বীকৃতি না দেন। তবে বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতি দিয়েছে মিশিগান রাজ্যে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মাইক শারকি এবং প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা লি চ্যাটফিল্ড। বিবৃতিতে তারা বলেছেন, মিশিগানের ইলেকটরদের বিষয়ে আমরা আইন এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী কাজ করব। তারা নির্বাচনে কোনো অনিয়ম পাননি বলেও জানিয়েছেন যা ট্রাম্পের জন্য একটা বড় ধাক্কা। এর পর পেনসিলভেনিয়ার আইনপ্রণেতাদের ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। শুক্রবার জর্জিয়ায় রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ানা কেম্প ইলেকটোরাল ভোটসংক্রান্ত সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে ১৬টি ইলেকটোরাল ভোট বাইডেনের পক্ষে গেল। ট্রাম্প এখানে পুনর্গণনার পরও হেরে যান।
সর্বশেষ নাভাদায় ভোটের ফলাফলের সার্টিফিকেট যাতে না দেওয়া হয় সেজন্য আদালতে আবেদন করেছিল ট্রাম্প শিবির। কিন্তু আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। এই রাজ্যে ৩৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে বাইডেন জিতেছেন। উইসকনসিনের ডেইন কাউন্টিতে ১০ হাজার ভোট বাদ দিতে বলেছিল ট্রাম্প শিবির। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তারা সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন।
