সমাজ এবং দেশ যখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় ভাসছে, ঠিক তখনই অন্যপ্রান্তে ডুবে যাচ্ছে মানুষের সভ্যতা, শিষ্টাচার, নৈতিকতা আর সৌজন্যবোধ। হারিয়ে যাচ্ছে মানবতা আর মনুষ্যত্ব। সমাজে এখন সিনিয়র জুনিয়র একে অন্যের প্রতি নেই কোনো সৌহার্দ এবং ভালোবাসা। নেই সম্মান আর স্নেহ। নেই গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি আর সৌজন্যবোধ। বলা যায়, শিষ্টাচারিতার স্থানটি প্রায় লোপ পেয়ে যাচ্ছে এদেশ এবং সমাজ থেকে। আর এর জন্য অনেকটাই দায়ী আমাদের বর্তমান কৃষ্টি-কালচার। সেই সঙ্গে আছে পারিবারিক শিক্ষা।
একটা শিশু বেড়ে ওঠার সময় সে সমাজে এবং পরিবারে যা-ই দেখবে তা-ই গ্রহণ করবে। আমার সন্তান খারাপ হচ্ছে মানে ভাবতে হবে আমারও কিছু সমস্যা রয়েছে। আমি গালি দিলে আমার সন্তান সেটা কেনো শিখবে না? আমার বদ অভ্যাস থাকলে সেটা অবশ্যই আমার সন্তান শিখতে পারে। তাই বড়রা ঠিক হলে ছোটরা অনেকটাই পরিবর্তনের দিকে আসবে বলে আমরা মনে করি।
আজকাল বড়রাই ছোটদের এই শিষ্টাচার, নৈতিকতা এবং ভদ্রতা শেখানোর চেয়ে নোংরা এবং বিকৃত করে তুলছে। তারাই ছোটদের নিয়ে কুকর্ম আর অন্যায় পথে হাঁটছে। সমাজের তথাকথিত বড় ভাইরা ছোট ভাইদের হাতে আজ অস্ত্র, ইয়াবা—এসব তুলে দেয়। আর এসব দিকে সমাজ পরিবার খুব একটা নজর দেয় না। এরপর একদিন নষ্ট ছেলেটা নিজের বাবা-মায়ের ওপর আঘাত করতে দ্বিধাবোধ করে না। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ঐশী।
একটা বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে, আজ আপনি যা করবেন কাল আপনার ছোটরা সেটা আপনার সঙ্গে করবে। আপনি যদি আপনার বড়কে সম্মান না দেন তাহলে আপনাকে আপনার ছোটরা কীভাবে সম্মান দিবে? আর আপনিও সেই সম্মান কীভাবে আশা করবেন? তাই সচেতন হতে হবে আপনাকে আমাকে। আর সেই সচেতনতা শুরু করতে হবে এখন থেকে। যার যার অবস্থান থেকে মানবিকতা, নৈতিকতা, নম্রতা, ভদ্রতা, শিষ্টাচারিতা, সৌজন্যতা এবং ভালো ব্যবহার করতে হবে। তবেই অন্যরা আমাকে দেখে শিখবে। আমি অন্যের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলে তার বিনিময়ে আমিও ভালো ব্যবহার পাব। তাই আগে নিজে পরিবর্তন এবং সচেতন হই, তারপর অন্যকে সচেতন করার কথা ভাবি। আমি যা করি না, তা অন্যকে করতে বলাটাও এক ধরনের ভণ্ডামি। আমি অন্যায় কাজ করি, আর মানুষকে বড় বড় লেকচার দিয়ে বলব, অন্যায় কাজ করিও না। এমন নৈতিকতার প্রয়োজন নেই। আমি কেমন সেটা মুখ দিয়ে প্রমাণ না করে কাজে প্রমাণ করাটাই আসল প্রমাণ। তাই আসুন আমরা প্রত্যেকে যার যার স্থান থেকে পরিবর্তন হই, দেখবেন একদিন দেশ হয়ে উঠবে ভালোবাসায় ভরপুর। সবার ভেতর থাকবে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। আর সেই শ্রদ্ধা হবে খাঁটি। তাই এখন থেকে নিজেদের ভেতর সেই মানসিকতা তৈরি করতে হবে। ছোটদের স্নেহ আর বড়দের সম্মান দিয়ে আগে নিজেরা নিজেদের ঠিক করি। তখন আমার কাছ থেকে বড়, ছোট—উভয়ই শিক্ষা পাবে। পরিশেষে বলতে চাই, মুখে নয় কাজেই দেখাতে হবে সচেতনতা আর পরিবর্তনের ভাষা।
n লেখক : শিক্ষার্থী, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ,
ওমরগনী এমইএস কলেজ,
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
