কুমিল্লা জেলা শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড সংরাইশ এলাকার ঘোষপাড়ার কালী মন্দির সংলগ্ন প্রায় এক একর আয়তনের পুকুর ভরাটের কাজ চলছে। কয়েক শ বছরের পুরোনো এই পুকুর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গোসল, কাপড় ধোয়া, নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিষ্কার করা ছাড়াও জলাবদ্ধতা নিরসন ও দুর্যোগকালীন ফায়ার সার্ভিসের পানি সংগ্রহের উত্স ছিল। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রায় এক মাস আগে প্রথমে পুকুরটির চারপাশে বেড়া দেয়। এরপর কাছাকাছি দূরত্বে থাকা গোমতী নদী থেকে মাটি ও বালু এনে ভরাট কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালী চক্রের লাঠিয়াল বাহিনীর কারণে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না। আর এভাবে আরেকটি পুকুর হারিয়ে যাচ্ছে নগরীর মানচিত্র থেকে। কুমিল্লা মহানগরীতে প্রতিটি পাড়া-মহল্লার নামের পাশে পুকুর বা দিঘির নাম সম্পৃক্ত। একদিকে পরিবেশ অন্যদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুকুর ভরাট হলেও পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন বা জেলা প্রশাসন নীরব। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা মহানগরী থেকে হারিয়ে গেছে অর্ধশতাধিক পুকুর। সেগুলোর মধ্যে আছে ঝাউতলা খ্রিষ্টানপাড়া, বাগিচাগাঁও, অশোকতলা, রাজগঞ্জ পান পট্টি, পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকা, দক্ষিণ চর্থার একাধিক পুকুর, চকবাজার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন পুকুর, ঠাকুরপাড়া, মদিনা মসজিদ রোড এলাকার পুকুর, জোড়পুকুর বিষ্ণুপুর, কালিয়াজুড়ি, ছোটরা, স্টেশন রোড বিআরটিসি বাস টার্মিনাল সংলগ্ন পুকুর, বাগিচাগাঁও মসজিদ সংলগ্ন পুকুর, ধর্মপুর রেলগেট সংলগ্ন পুকুর, ধর্মপুর খাদ্য গোডাউন সংলগ্ন পুকুর, প্রফেসরপাড়া, হাউজিং স্টেট এলাকায় আম দিঘি। ভরাট হয়ে চলা সংরাইশ কালী মন্দির সংলগ্ন পুকুর রক্ষার জন্য আশু উদ্যোগ নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
