একুশ শতকে যখন আমরা উন্নতির চরম শিখরে—ঠিক এ সময়ে রাঙ্গাবালী উপজেলায় নেই কোনো হাসপাতাল! তিন পাশে নদী এবং অপর পাশে বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা চরবেষ্টিত দুর্গম এ উপজেলা পুরোটা বিচ্ছিন্ন অন্য উপজেলা থেকে। তাই অসুস্থ রোগীকে নদী পার করে দ্রুত অন্য উপজেলা বা জেলায় চিকিত্সার জন্য নেওয়া সম্ভব নয়। উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় চিকিত্সার জন্য নির্ভর করতে হয় পাশের উপজেলা গলাচিপা বা পটুয়াখালী জেলা শহরের ওপরে—সেখানে যেতে হয় নদী পাড়ি দিয়ে। লঞ্চ ও খেয়া ছাড়ার সময় নির্দিষ্ট। আবার স্পিডবোড না পেলে নদী পাড়ি দেওয়ার একমাত্র উপায় স্থানীয় ট্রলার। ট্রলার জোগাড় করে নদী পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে যেতে যেতে অনেকটা সময় প্রয়োজন হয়, যার ফলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে যায়। রাতের বেলা রোগীকে পাশের উপজেলায় নেওয়া দুরূহ কাজ। রোগীকে অপেক্ষায় থাকতে হয় সকাল হওয়ার। কিন্তু ইমারজেন্সি রোগীর বেলায় বিপদে পড়তে হয়। সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়তে হয় প্রসূতি মায়েদের। তাঁদেরকে গ্রাম থেকে জেলা পর্যন্ত নিতে অনেকটা সময় পার হয়ে যায়, জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে না পারলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন এই যে, দ্রুততম সময়ে এ উপজেলায় হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নিন—যাতে চরবেষ্টিত দুর্গম এ এলাকার মানুষের চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত হয়।
মো. মাইদুল ইসলাম
রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী
