ভুটানের অভ্যন্তরে চীনের গ্রাম!

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৮

ভুটানের আন্তর্জাতিক সীমানার অন্তত আড়াই কিলোমিটার ভেতরে চীন একটি অত্যাধুনিক গ্রাম বানিয়ে ফেলেছে এবং চীনা নাগরিকরা সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করছেন এই দাবিকে ঘিরে ভারতে তোলপাড় পড়ে গেছে। এদিকে ভূ-উপগ্রহ চিত্রেও গ্রামে রাস্তা বানানোর চিত্র ধরা পড়েছে। ঐ রাস্তার অভিমুখ ভারতের দিকে। ভারতে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূতও গ্রাম বানানোর দাবি অস্বীকার করেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরাও অনেকেই বলছেন যে গ্রামটির ছবি দেখা গেছে সেটি আসলে ভুটানেই। খবর বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকার

শেন শিওয়েই চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের সিনিয়র একজন সাংবাদিক। তার একটি টুইট থেকেই এই গোটা কাহিনির সূত্রপাত। দিনতিনেক আগে নিজের টুইটার হ্যান্ডল থেকে তিনি একটি আধুনিক পার্বত্য গ্রামের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লেখেন : ‘নবনির্মিত প্যাংডা গ্রামে এখন আমাদের স্থায়ী বাসিন্দারা থাকছেন। ইয়াডাং কাউন্টি থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে যে উপত্যকা, এই গ্রামটি সেখানেই। সঙ্গে তিনি গ্রামের লোকেশনের একটি মানচিত্রও সংযুক্ত করে দেন যা থেকে বোঝা যায় গ্রামটি আসলে ভুটানের সীমানার বেশ ভেতরে’।

ছবিগুলোতে দেখা যায়, সুইজারল্যান্ডের শ্যালের মতো আধুনিক স্থাপত্যে পাহাড়ে ঘেরা নদীচরে একটি আধুনিক গ্রাম গড়ে তোলা হয়েছে। পরে তিনি টুইটটি ডিলিট করে দিলেও ভারতে পর্যবেক্ষকরা অনেকেই মনে করছেন, যেহেতু ভুটানের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতির দায়িত্ব ভারতের, তাই পোস্টের মাধ্যমে আসলে চীন ভারতকেই বার্তা দিতে চেয়েছে যে তারা ভুটানের ভেতরেও স্থায়ী বসতি তৈরি করতে সক্ষম।

দিল্লি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এমনকি ভারতের সাবেক কূটনীতিবিদরাও বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। ভুটানে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করতে আসা অন্তত দুই জন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিবিদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে চান না। দিল্লিতে ভুটানের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল ভি নামগিয়েল অবশ্য এর মধ্যেই এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, তাদের দেশের সার্বভৌম সীমানার মধ্যে চীনের কোনো গ্রাম নেই। ‘দ্য ভুটানিজ’ পত্রিকার সম্পাদক তেনজিং লামসাংও টুইট করে জানিয়েছেন, চীন সীমান্তে সামান্য কোনো রাস্তা তৈরির চেষ্টা হলেও ভুটানের সেনারা তা সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে একটা আস্ত গ্রাম বানানোর কথা বলা হচ্ছে, অথচ সেনারা কিছু রিপোর্টই করেনি।

ভুটানের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করা হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু দিল্লিতে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রহ্মা চেলানি মনে করছেন গোটা বিষয়টাতে অবশ্যই ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার উপাদান আছে। ড. চেলানির কথায়, চীনারা ভুটানের ভূখণ্ডের ভেতর এমন একটা জায়গায় ঢুকে পড়েছে, যে জায়গাটা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভুটানের জন্য জায়গাটা হয়তো তত গুরুত্বপূর্ণ নয়। ফলে তারা বার্তা দিতে চাইছে ভারতকেই। এর আগে নেপালেও সীমান্তের অন্তত পাঁচটি জেলায় ঢুকে চীন গ্রাম বানিয়েছে। সেখানে মূল ভূমি থেকে চাইনিজদেরকে আনার চেষ্টা করেছে।