প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একটার পর একটা সেতু হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারে এসে সারা দেশে ব্যাপক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে বলেই এখনো দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। আরো অনেক কাজ আমরা শুরু করেছি, সেগুলোও সম্পন্ন করব ইনশাআল্লাহ।’ গতকাল রবিবার সকালে মাগুরা, নারায়ণগঞ্জ ও যশোরে তিনটি সেতু এবং পাবনায় স্বাধীনতা চত্বরের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী করোনার মধ্যে সরকারের সাফল্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘দারিদ্র্যসীমা যেমন আমরা কমিয়ে এনেছি, মাথাপিছু আয় আমরা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষের জীবনমান যে উন্নত করা যায়, সেটাও আমরা প্রমাণ করেছি।’ তিনি বলেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুতের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং উত্পাদিত পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ, বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আনার ব্যবস্থা, সর্বোপরি অর্থনীতির চাকাটা যাতে সব সময় সচল থাকে, সেই সব দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েই তার সরকার পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করছে। এই তিনটি সেতু মহম্মদপুর, রূপগঞ্জ ও অভয়নগরবাসীর জন্য মুজিববর্ষের উপহার।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় করোনার সেকেন্ড ওয়েভ সম্পর্কে জনগণকে পুনরায় সচেতন করে দিয়ে মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তিনটি সেতু নির্মাণের কারণে জনগণের জীবনমানে যে পরিবর্তন ঘটবে বলে সরকার আশা করছে, তার একটি খতিয়ান তুলে ধরে পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুলের জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, রফিকুল ইসলাম বকুল একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। তিনি (শেখ হাসিনা) যখন ’৮১ সালে প্রবাস জীবন থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দেশে ফেরেন, তখন বারংবার বাধার সম্মুখীন হন। তখন যে কয়েক জন তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সাহসে ভর করে সেই কঠিন অবস্থার মোকাবিলা করেছেন, তাদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল উল্লেখযোগ্য।
প্রধানমন্ত্রী যে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করেছেন, সেগুলো হচ্ছে—মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলাধীন মধুমতী নদীর ওপর এলাংখালী ঘাটে ৬০০ দশমিক ৭০ মিটার দীর্ঘ শেখ হাসিনা সেতু, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলাধীন মুড়াপাড়া ফেরিঘাট রাস্তায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর ১০ হাজার মিটার চেইনেজে ৫৭৬ দশমিক ২১৪ মিটার দীর্ঘ বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) সেতু এবং যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় সড়ক ও জনপথের যশোর-খুলনা সড়কের ভাঙ্গাগেট (বাদামতলা) থেকে আমতলা জিসি ভায়া মরিচা, নাউলী বাজার সড়কে ভৈরব নদের ওপর ৭০২ দশমিক ৫৫ মিটার দীর্ঘ সেতু। এছাড়া উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার পাবনায় ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে গণভবনের সঙ্গে সচিবালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মাগুরা, নারায়ণগঞ্জ ও যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বর সংযুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন, পাবনা প্রান্ত থেকে স্বাধীনতা চত্বর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী বক্তৃতা করেন। এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রান্তে এবং নারায়ণগঞ্জ প্রান্তে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, গণমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপকারভোগী জনগণ নিজ নিজ প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
