আদালতের বারান্দায় লুটিয়ে কাঁদলেন তরুণী

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২০, ২২:৪৬

গত বছরের ২৯ জুন জাজিরার এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল জাজিরা পৌর এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ব্যাপারীর বিরুদ্ধে। ঐ ঘটনায় মেয়েটি মাসুদ ও তার সহযোগী শরীফ সরদারকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। গতকাল রবিবার ঐ ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চলছিল শরীয়তপুর নারী ও নিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে।

মামলার দুই জন সাক্ষী মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেন এমন অভিযোগ এনে ধর্ষণের শিকার ঐ ছাত্রী আদালতের বারান্দায় লুটিয়ে কাঁদতে থাকেন। এ সময় তার সঙ্গে আসা স্বজনেরাও কাঁদেন। তাদের কান্না দেখে আদালত চত্বরে থাকা অনেকেই চোখের পানি ফেলেছেন।

জাজিরা থানা, স্থানীয় সূত্র ও আইনজীবীরা  জানান, জাজিরার একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ঐ কলেজছাত্রী। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি উপজেলা সদরের একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে কাজ করতেন। গত বছরের ২৯ জুন সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন পৌর এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ব্যাপারী (৩২)। পরে মেয়েটি সেখান থেকে পালিয়ে গ্রামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

ঘটনার দিন মেয়েটিকে যারা উদ্ধার করেছিলেন, তাদের দুই জন মানছুরা বেগম ও আলেকজান বেগম। রবিবার তারা দুই জন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার সাক্ষ্য দিতে আসেন। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ঐ দুই নারী আদালতকে জানান, তারা এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এ কথা শোনার পরই ধর্ষণের শিকার ঐ কলেজছাত্রী আদালতের বারান্দায় লুটিয়ে পড়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। মেয়ের কষ্টে কাঁদেন মা-বাবাও। অথচ ঐ দুই নারী সাক্ষী গত বছরের ২৯ জুন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার বর্ণনাকালে ঐ মেয়েকে উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছিলেন, যা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয়। এছাড়া গত বছরের ১১ জুলাই ঐ দুই নারী শরীয়তপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঐ দিনের ঘটনা বর্ণনা করে জবানবন্দি দেন। সেই জবানবন্দিতেও ঐ কলেজছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং তিনি জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসেছেন এমন কথা তারা উল্লেখ করেন।

এখন দেড় বছরের মাথায় মামলার এই দুই জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী তাদের বয়ান বদলে ফেলায় হতাশ হয়ে পড়েছেন মেয়েটি।

কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটি বলেন, ‘আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে। পড়ালেখা, স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা সবই বন্ধ হয়ে গেছে। তার পরও বিচার চাইতে আদালতে আসছি। বিচার চাইতে এসে প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে, নানা গঞ্জনা সইতে হচ্ছে। আসামিরা প্রভাবশালী, তারা প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। আমরা গরিব, এ কারণেই কি বিচার পাব না? ন্যায়বিচার না পেলে এ জীবন রাখব না।’

মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েটি এখন ঘর থেকে বের হতে পারে না। তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। আদালতে এলে মারার হুমকি দেয়, তাদের আইনজীবীরাও হুমকি দেয়। বিষয়টি জানিয়ে থানায় জিডিও করেছি। ওরা সাক্ষীদেরও প্রভাবিত করেছে। আমরা গরিব মানুষ, মামলাটি চালাতে গিয়ে আসামিপক্ষের সঙ্গে পেরে উঠছি না। কেউ আমাদের পাশে নেই।’

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মির্জা হযরত আলী বলেন, ‘মামলার সাক্ষী নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। আদালতের বাইরে আসামিরা হয়তো সাক্ষীদের প্রভাবিত করেছেন। এ কারণে পূর্বের বয়ান বদলে থাকতে পারেন। আগামী তারিখে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিকিত্সকের সাক্ষ্য নেওয়া হবে। আমরা আশা করছি ভুক্তভোগী নারী ন্যায়বিচার পাবেন।’