করোনার ২য় ঢেউ মোকাবেলায় তৎপর মাদারীপুর জেলা পুলিশ

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২০, ২২:৫৪

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপে সংক্রামণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে 'করোনা ভাইরাসে আতঙ্ক নয় দরকার সচেতনতা ও সতর্কতা' এই বিষয়কে প্রতিপাদ্য করে মাদারীপুর জেলা পুলিশ-মাস্ক পরিধান, স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পরার জন্য নিয়মিত মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণা করে যাচ্ছে। যারা মাস্ক পরছেন না তাদেরকেই দিয়ে মাস্ক পড়ার বিষয়ে সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে মানুষ ঘরের বাইরে যাচ্ছে কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই কোন ভীতি, উদ্বেগ ও সচেতনতা। গন-পরিবহন, হাট-বাজার, বিপণী বিতান, বিনোদন স্পট, লঞ্চ ও বাসে কোথাও মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।
 
নিয়মিত চেকপোস্টের মাধ্যমে জেলা শহরে এবং থানা এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা স্থান, হাটবাজার, বাস ও লঞ্চঘাটে এবং জনসমাগমস্থলে মাস্ক বিতরণের মাধ্যমে জনগণকে মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সচেতনতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে মাস্ক পরিয়ে মাস্ক পড়ার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে দেশে প্রথম ৮ই মার্চ ২০২০ শিবচরকে লকডাউন করা হয় তখন মাদারীপুর জেলা পুলিশ লকডাউন কর্মসূচীতে পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার সাথে কাজ করে। 

দেশের প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির শনাক্ত হয় মাদারীপুরের শিবচরে। জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১৫৪০ জনের মধ্যে সদর থানায় ৬৭৫ জন, শিবচর থানায় ২৫৫ জন, কালকিনি থানায় ১৯২ জন, ডাসার থানায় ৪০ জন এবং রাজৈর থানা এলাকায় ৩৭৮ জন। এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৮জন। 

করোনা সংক্রামন প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথম থেকেই সাহস ও উদ্যমের সাথে কাজ করে যাচ্ছে মাদারীপুর জেলা পুলিশ। করোনা ভাইরাস সংক্রামন প্রতিরোধে গত মার্চ মাসের শুরু থেকেই মাদারীপুর জেলা পুলিশ জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ, নিয়মিত মাইকিং, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচারাভিযান চালিয়ে আসছেন।
 
এছাড়াও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে মাদারীপুর জেলা পুলিশ। করোনার ২য় ঢেউ মোকাবেলায় প্রচার-প্রচারণা, সচেতনতা ও মানবিক সহায়তা এখনও অব্যাহত আছে। 

ইতোমধ্যে সরকার নো মাস্ক নো সার্ভিস ঘোষণা করেছে। পুলিশ সুপার কার্যালয়, থানা-ফাড়ী ও বিভিন্ন ইউনিটে এই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া আগত সেবা প্রত্যাশীদেরও মাস্ক সরবরাহ করা হচ্ছে। 

ইত্তেফাক/এএইচপি