পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পুতুল সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, ২০১৮ সালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নির্বাচনে জালিয়াতি করে ক্ষমতায় এসেছেন তিনি। জানুয়ারির মধ্যেই পদত্যাগের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে বিক্ষোভে। খবর বিবিসি ও ডনের
করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে জনসমাগম আয়োজনে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গতকাল রবিবার পেশোয়ারে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর অংশগ্রহণে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিক্ষোভে বিরোধীরা আগামী জানুয়ারির মধ্যে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির মামলার কার্যক্রম বন্ধ করতে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী। ইমরান খানও নির্বাচনে বিজয়ের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০২৩ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা।
বিক্ষোভের পেছনে কারা?
১৬ অক্টোবর থেকে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) একের পর এক বিক্ষোভ আয়োজন করেছে। দক্ষিণপন্থি ধর্মীয় দল থেকে শুরু করে কিছুটা বামপন্থি চিন্তাধারার, এমনকি ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্যরাও এই দলের সঙ্গে যুক্ত। দেশটির চারটি প্রদেশের তিনটিতেই (পাঞ্জাব, সিন্ধু ও বেলুচিস্তান) বড় ধরনের র?্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাইবার পাখতুনওয়ালা রাজ্যে গতকালই প্রথমবারের মতো সরকার বিরোধী র?্যালি হয়। বিরোধী দলগুলো বলছে, তারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব না করা এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। সরকারের বিরুদ্ধে বিচার ব্যবস্থার ওপর প্রভাব তৈরি এবং অর্থনীতির অব্যবস্থাপনার অভিযোগও তুলেছে তারা।
এখন কী হতে পারে?
সম্প্রতি চলমান বিক্ষোভের কী পরিণতি হবে তা কেউই ধারণা করতে পারছে না। কিন্তু সবাই জানে যে দ্বন্দ্বটা রাজনীতিবিদ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে তার বিরোধীরা খুবই কম প্রভাবশালী হিসেবে মনে করেন। বিরোধী র?্যালিগুলোতে শুধু ইমরান খানের বৈধতারই প্রশ্ন তোলা হয়নি, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের মধ্যে সংঘাতের ইতিহাস অনেক পুরোনো। শেষবার ২০০৮ সালে জনরোষের মুখে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ক্ষমতাচ্যুত হন।
