দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে মেঘনার গ্রাসে ভেঙ্গে চলছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন।বিলীন হয়ে গেছে বাড়ি-ঘর, দালান-কোঠা, ফসলি জমি, মাঠ, পুরোনো মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনাসমূহ। এদিকে গত কয়েক মাসে রায়পুর উপজেলার মোল্লারহাট বাজারের এক অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বসত বাড়ি হারিয়েছে অন্তত দুই শতাধিক পরিবার। বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গন পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার তিন ইউপির ১২ গ্রামের মানুষ অন্য কোনো উন্নয়ন নয় কেবলই ভাঙ্গন প্রতিরোধে নদী তীর রক্ষা বাঁধ চায়।
২০১৪ সালের ২৯ মে সরেজমিনে এসে পানিসম্পদ মন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু প্রায় সাত বছরেও ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। এর আগেও স্থানীয় সাংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী পাঁচবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কেউই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি।
জানা গেছে, চাঁদপুরের হাইমচর থেকে রায়পুর উপজেলা ও সদর উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ রয়েছে। কিন্তু বাঁধের পশ্চিম দিকে তথা মেঘনা নদী তীরবর্তী প্রায় ৮ কিলোমিটার বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে উপজেলার উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী, দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা। ভাঙ্গনে উপজেলার চরবংশীর মোল্লারহাট বাজার, মিয়ারহাট বাজার, চরকাছিয়া, চরজালিয়া, চরঘাসিয়া, হাজিমারা সুইজগেইট, আলতাফ মাষ্টার ঘাট এলাকা, চর পাঙ্গাসিয়া ও-হায়দরগঞ্জ উপশহর মেঘনার পাড়। ভাঙ্গনের মুখে থাকা মোল্লারহাট, খাসেরহাট, মেঘনা বাহার ও হায়দরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, জোয়ার এলেই পানি উঠে বাজার এলাকার প্রায় অংশ ও ঘরবাড়ি ডুবে যায়। নদীতে ভেঙ্গে বিলীন হয় দোকানঘর। ভাঙ্গন না ঠেকানো না গেলে তাদের পথে বসতে হবে।
রবিবার সরজমিনে গেলে-ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ভাঙ্গন এতোই বেশি ঘর-বাড়ি সরিয়ে নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে ভাঙ্গন থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চরবংশী ও চরআবাবিল ইউপির কয়েকটি গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে।
চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু ফরাজী বলেন, ভাঙ্গনে তাদের এলাকার অঞ্চলের প্রায় দরিদ্র পরিবারের বাড়ি-ঘর বিলিন হয়ে গেছে। নতুন করে বসতি গড়লেও মেঘনা ধেয়ে আসছে। এমন সময়ে উপজেলার সব শ্রেণি পেশার মানুষের একটাই দাবি, অন্য কোনো উন্নয়ন নয় ভিটে মাটি রক্ষায় নদীর ডুব চর ড্রেজিং করে নদীর তীর রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ এবং এসব কাজ সেনাবাহিনীকে দিয়ে কার্যকর করা।
ইত্তেফাক/কেকে
