মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সহকর্মীর হাতে জেলে খুন

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:১২

জালের মালিকানাগত ঈর্ষা ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারগানা এলাকায় খুন করা হয়েছে বোরহান উদ্দিন (৩৮) নামে এক জেলেকে। ঘটনার ১৪ দিন পর কালীগঞ্জ, পলাশ, টঙ্গী ও ঢাকা থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, কালীগঞ্জ ও পলাশ থানা পুলিশ এবং স্থানীয়দের সহযোগীতায় দুই দিনের চেষ্টায় বুধবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদীর দক্ষিণ নারগানা এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। 

জানা গেছে, জালের মালিকানাগত ঈর্ষা এবং মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সহকর্মী পরিমল চন্দ্র বর্মন (৫২) এবং তার ভাতিজা কমন চন্দ্র বর্মন পরিকল্পনা করে হত্যা করে বোরহান উদ্দিনকে।  পরে সেই লাশ জাল দিয়ে পেঁচিয়ে নৌকার সাথে বেধে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়। উদ্ধারের পর ওইদিন বিকেলেই গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয়দের সহযোগীতায় ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। নিহত এবং আটক সবাই উপজেলার দক্ষিণ নারগানা এলাকার বাসিন্দা। খুন, উদ্ধার, আটক ও ময়নাতদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুবকর মিয়া।  

স্থানীয় ও থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, পরিমল ও বোরহান শীতলক্ষ্যা নদীতে মাছ ধরার কাজ করতেন। বেশ কিছুদিন আগে পরিমলের জাল নিখোঁজ হয়। সন্দেহের তীর বিধে বোরহানের দিকে। পরিমলের জাল হারিয়ে যাওয়াতে বোরহান একাই শীতলক্ষ্যা নদীতে মাছ ধরার রাজত্ব করতে থাকে। চাচা পরিমল ও ভাতিজা কমল মিলে বোরহানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। 

সেই পরিকল্পনার ধারাহিকতায় গত ২ জানুয়ারী দিবাগত রাতে বোরহান নদীতে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বের হয়। ওই রাতেই চাচা পরিমল ও ভাতিজা কমল মিলে বোরহানকে খুন করে লাশ জাল দিয়ে পেঁচিয়ে নৌকার সাথে বেধে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়। নিখোঁজের ৫ দিন পর বোরহানের স্ত্রী তানিয়া বেগম বাদী হয়ে গত ৭ জানুয়ারী কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নং ২৩৬) করেন। ঘটনার ১৩ দিন পর (১৫ জানুয়ারী) নিহতের শ্যালকের কাছে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে পরিমল ও ভাতিজা কমল। 

আরও পড়ুন:  টেকনাফে ২৯ লাখ টাকার ইয়াবাসহ আটক সিএনজি চালক

স্থানীয়রা পরিমলের ছেলে পাপন চন্দ্র বর্মনসহ (১৮) ৩ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জানুয়ারী কালীগঞ্জ, পলাশ, টঙ্গী ও ঢাকা থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, কালীগঞ্জ ও পলাশ থানা পুলিশ এবং স্থানীয়দের সহযোগীতায় শীতলক্ষ্যা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। দুই দিনের চেষ্টার পর বুধবার বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ নারগানা এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুরে পাঠানো হয়।  

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুবকর মিয়া জানান, 'আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের সত্যতা মিলেছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে'। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি