দেশের শিল্পোদ্যোগের ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের। কিন্তু এ খাতের উদ্যোক্তাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে শুরু করতে হয়। ফলে অনেক উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত সফল হয় না। এর পেছনে অর্থায়নকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণের সুদের উচ্চ হার, দক্ষ-স্বল্পদক্ষ কর্মীর স্বল্পতা, নতুন কর্মী কাজে না লাগানো, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ না থাকা, কার্যকর ব্যবসার নেটওয়ার্ক না থাকা, তথ্যের অভাবে উত্পাদন ও বিপণন বাধাগ্রস্ত হওয়া, সরকারি সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, এসএমই ক্লাস্টারগুলোতে জায়গার স্বল্পতা এবং ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজে স্বল্প সাবকন্ট্র্যাক্টিং চর্চাও খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাংলাদেশের এসএমই খাত নিয়ে এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়ন, জার্মান অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা’ শীর্ষক ঐ গবেষণা প্রতিবেদন গতকাল আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করা হয়। অনলাইনে আয়োজিত ঐ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় অর্থনীতিবিদ, এসএমই উদ্যোক্তা প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী ও কূটনীতিকরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। গবেষণায় সহায়তা করে জার্মান সংস্থা ফ্রেডরিক এবার্ট স্টিফটাং (এফইএস)।
প্রতিবেদনে জার্মান এসএমই খাতের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এসএমইকে গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বিবেচনায় এসএমইর শ্রেণিবিন্যাসকে আরো পরিষ্কার ও লক্ষ্যভিত্তিক করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষত জার্মানির আদলে ‘থিংক স্মল ফার্স্ট’ নীতি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া নীতি সহায়তা এবং কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এসএমই খাতকে সচল রাখা, ভিন্ন ভিন্ন এসএমই খাতের জন্য আলাদা নীতি সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে এসএমই খাতের জন্য সহায়ক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এসএমই খাতের কারিগরি উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ, শক্তিশালী কারিগরি শিক্ষা এবং শিক্ষানবিশ ব্যবস্থা চালু, সার্বজনীন মজুরি ব্যবস্থা, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বেশি মনোযোগ, ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজের সঙ্গে মিলিয়ে ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন, বিশ্ব প্রতিযোগিতার সঙ্গে সংযোগ তৈরি, উত্পাদন ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নে শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং সাবকন্ট্র্যাক্টিং নীতিমালায় গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
গবেষণা প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এম এ বাকী খলীলী। এ সময় ড. গওহর রিজভী বলেন, এসএমই খাতের ওপর নির্ভর করে জার্মানির এগিয়ে যাওয়া উত্সাহব্যঞ্জক। বাংলাদেশের মোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ শতাংশের এসএমই প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতিতে অবদান মাত্র ৪০ শতাংশ। এটি প্রমাণ করে এই খাতের দক্ষতা উন্নয়নে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ওয়েবিনারের সভাপতি এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান ছাড়াও এ সময় বক্তব্য দেন জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশের জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম এফইএস বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি টিনা ব্লুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তৈয়বুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী এবং সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রমুখ।
