বন্ধ হতে চলেছে পাবনা সুগার মিল!

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২০, ২১:১০

শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চিঠি

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা

বন্ধ হতে চলেছে পাবনা সুগার মিল। ৪০০ কোটি টাকারও বেশি লোকসানে পড়ায় চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন এরই মধ্যে মিলটি বন্ধে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। উত্পাদন ঘাটতি ও উত্পাদন খরচ অপেক্ষা চিনির বিক্রয়মূল্য কম থাকার কারণে ধারাবাহিক লোকসানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়াও রয়েছে প্রতিষ্ঠাকালীন ঋণ ও ঋণের সুদের ভার। এরই মধ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের পক্ষ থেকে উল্লেখিত বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্ত হলে বন্ধের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। পাবনা সুগার মিল ছাড়াও বন্ধের তালিকায় আরো কয়েকটি মিলও রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, মিল বন্ধ করা ঠেকাতে এবং চিনিশিল্প রক্ষায় পাঁচ দফা দাবি নিয়ে বাংলাদেশ চিনিশিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন সারা দেশে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এরই অংশ হিসেবে গত শনিবার ছয়টি মিল গেটে ফটক সভা, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

বাংলাদেশ আখচাষি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ঈশ্বরদীর আখচাষি শাজাহান আলী বাদশা জানান, মিল জোনে এ বছর ৫ হাজার ২০০ একর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। পাবনা সুগার মিলে আগত মাড়াই মৌসুমে ৮০ হাজার টন আখ মাড়াই করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে কৃষকদের ৪ কোটি টাকারও বেশি ঋণ দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৫ হাজার কৃষক এ বছর ঈশ্বরদীতে তাদের জমিতে আখ চাষ করেছেন। আবাদকৃত আখ কাটারও উপযোগী হয়েছে। এখন মিল বন্ধ ঘোষণা করা হলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া মৌজায় ৬০ একর জমির ওপর ‘পাবনা সুগার মিল’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে আখ মাড়াই মৌসুমে পরীক্ষামূলক উত্পাদন শুরু হয়। বাণিজ্যিকভাবে চিনি উত্পাদন শুরু করে ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে। চালুর পর থেকেই উত্পাদন ঘাটতি ও লোকসানের কবলে পড়ে এ সুগার মিল। পাবনা সুগার মিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল জানান, বিগত পাঁচ-ছয় মাস এই মিলের শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন দেওয়া হয়নি। প্রায় ৬৫০ জন শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন বাবদ মিলের কাছে ৬ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এ অবস্থায় মিল বন্ধের খবরে সবাই হতাশাগ্রস্ত।

বাংলাদেশ চিনিশিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, মিল বন্ধ ঠেকাতে গত ১৬ নভেম্বর ফেডারেশনের যৌথসভায় আন্দোলনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাবনা সুগার মিলের এমডি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, অফিশিয়ালি চিঠি পাইনি তবে মৌখিকভাবে শুনেছি পাবনা সুগার মিল বন্ধ হয়ে যাবে। চলতি মাড়াই মৌসুমে আখ মাড়াইয়ের নির্দেশনা এখন পর্যন্ত আসেনি। বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনিশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান সনত্ কুমার সাহা বলেন, মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের। করপোরেশন থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। মন্ত্রণালয় সম্মতি দিলে গেজেট করার পর আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান সনত্ কুমার সাহা বলেন, গত অর্থ বছরে ১৫টি সরকারি সুগার মিলে ৯৩৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এভাবে প্রতি বছরই হাজার কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। ক্রমাগত লোকসানের কারণে পাবনা সুগার মিলসহ ছয়টি সুগার মিল বন্ধে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে করপোরেশন থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। মন্ত্রণালয় সম্মতি দিলে গেজেট করার পর আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।