দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মো. কামরুল ইসলাম সোহাগ, দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কাগজে-কলমেই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট। চিকিত্সক, কর্মচারী ও চিকিত্সা সরঞ্জামের সংকট প্রকট। অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ মো. ফারুক আলম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও লোকবল সেভাবে বাড়েনি। ১২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ৮০ জন। দীর্ঘদিন ধরে ৪৬টি পদ রয়েছে শূন্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র এক্সরে মেশিনটি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা জানান, অতি সম্প্রতি এক্সরে রুমের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে এবং এক্সরে মেশিন মেরামতের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট না থাকায় প্যাথলজি বিভাগও চলছে জোড়াতালি দিয়ে। সেখানে হাতে গোনা কয়েকটি পরীক্ষা হয়। একমাত্র আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট। এক্সরে মেশিন ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট থাকায় নিরুপায় হয়ে হাসপাতালের সামনে গড়ে ওঠা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে রোগীদের এক্সরে এবং আলট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য পরীক্ষা করতে হয়। হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা নাসরিন বেগম বলেন, তাদের নামে বরাদ্দ করা খাবার খুবই নিম্ন মানের। খাদ্যের তালিকা অনুযায়ী কোনো ভালো খাবার সরবরাহ করা হয় না। অন্যদিকে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের বাথরুমে নানা সমস্যা রয়েছে। অনেক সময় দুর্গন্ধে ওয়ার্ডেও থাকতে সমস্যা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের গাইনি ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিত্সক একান্ত প্রয়োজন। চিকিত্সা যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোজনিত সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’ হাসপাতালে একজন ডেন্টাল সার্জন থাকলেও ডেন্টাল বিভাগে কাজ করার মতো কোনো যন্ত্রপাতি নেই। হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে একটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। অন্যটির অবস্থাও ভালো নয়।
