স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশের ফুটবলে অসম্ভব জনপ্রিয় একজন খেলোয়াড় ছিলেন বাদল কুমার রায়। ফুটবলের ছোট বাদল। দেশের ফুটবলেই শুধু নয় তার ব্যক্তিত্ব মেধা আর সম্মোহনী শক্তি দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের সব স্তরের মানুষের মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আলাদা বৈশিষ্ট তাকে অন্যরকম উচ্চতায় রেখেছিল। যেখানেই গেছেন মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। বড়রা তাকে আলাদা করে মর্যাদা দিয়েছে। সেই মানুষটি রবিবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান।
ক্রীড়াঙ্গনে কালও গিয়েছিলেন বাদল রায়। নিজের গাড়িতে নয়। লাশবাহী গাড়িতে। কফিনে করে। তার প্রানপ্রিয় মোহামেডান ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল শেষ শ্রদ্ধার জন্য। আগেই সেখানে ফুলে ফুলে মঞ্চ তৈরি করা ছিল। সেখানে বাদল রায়ের কফিন রাখা হলে সাবেক তারকা ফুটবলার স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু, প্রতাপ শংকর হাজরা, জনি, জোসি, কায়সার হামিদ, সাব্বির, আরিফুল হক প্রিন্স, ক্লাবের পরিচালক সারোয়ার হোসেন, মোস্তাকুর রহমান, মোহামেডানের বর্তমান ফুটবলার, শত শত সমর্থকরা অশ্রুসিক্ত নয়নে শ্রদ্ধা জানান। জাতীয় পতাকা এবং মোহামেডানের সাদাকালো পতাকায় ঢেকে দেওয়া হয় বাদল রায়কে। স্ত্রী মাধুরী রায় কাঁদছিলেন। নীরবে অনেকেরে চোখে পানি ঝরেছে। কথা বলতে পারেননি স্ত্রী কিংবা তার একমাত্র পুত্র বর্ণ রায়। একমাত্র কন্যা বৃষ্টি রায় বলে গেলেন ‘ফুটবলের মধ্যেই বেঁচে থাকবেন আমার বাবা।’ বৃষ্টি বলছিলেন তার বাবা ১০ নম্বর জার্সি নিয়ে খেলতেন। হাসপাতালের বেড নম্বর্র ছিল ১০। কিছুক্ষণ পরই বাদল রায়ের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। সেখানে ক্রীড়াঙ্গনের সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া। শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিষ্টার ফজলে নুর তাপস। তিনি বলেন, ‘বাদল রায়ের একটি স্বপ্ন ছিল যে, ফুটবল এবং ক্রীড়াঙ্গন সেই ঐতিহ্যে ফিরে যাবে। আমাদের সকলেরই উচিত বাদল রায়ের সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করা। তাহলেই ফুটবল আবার গৌরবের ধারায় ফিরে আসবে। বাদল রায়ের আত্মা শান্তি পাবে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস এমপি, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, সদস্য এডভোকেট রিয়াজুল কবীর কাওসার, হারুনুর রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। বাদল রায়ের ছবি লাগিয়ে ফুল দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেও আরেকটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। মঞ্চে মরদেহ, তার পাশে স্ত্রী মাশুরী রায়, কন্যা বৃষ্টি রায়। একে একে সবাই ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন। মাইকে বলা হচ্ছিল আপনারা সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে আসুন। অর্ধশতাধিক ফেডারেশন, সংগঠন ফুলে ফুলে ভরিয়ে দিচ্ছিল বাদল রায়ের নীথর দেহের পাশে। এত দিন সবার পাশেই ছিলেন যিনি তাকেই আরেক বার, শেষ বার দেখার জন্য ক্রীড়াঙ্গনের মানুষগুলোর মধ্যে আকুতি দেখা গেছে। চুন্ন, আসলাম, মোসাব্বের, জনি, কাজী নাবিল আহমেদ, বিওএর মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, কামরুন নাহার ডানা, আসাদুজ্জামান কোহিনূর, ক্রীড়া সাংবাদিক সহ প্রায় সব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকরা শ্রদ্ধা জানানোর পর দুপুরে শহীদ মিনার হয়ে বাদল রায়ের মরদেহ বাসাবো কালীমন্দির শ্মশানঘাটে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।
