ব্যস্ত শহর ঢাকায় মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম বাস। এখানকার বাসিন্দারা বাস ছাড়া একটি দিনও কল্পনা করতে পারে না। এখানে কর্মরত মানুষ আর শিক্ষার্থীদের গমনাগমনের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বাসচালকরা হয়ে উঠেছেন বেপরোয়া। একজন যাত্রী বেশি ওঠানোর জন্য বাজি রাখেন নিজের জীবনকে, মত্ত হয় ওঠেন ওভারটেকে। বাস চালানো অবস্থায় ধূমপান আর মোবাইলফোনে কথা বলা তাঁদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নের পর বাসচালকরা কিছুদিন সচেতন ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মাঝে মানিয়ে নেওয়ার একটা বিষয় আছে। নতুন আইনগুলো জানার পরও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হয়ে উঠেছেন আগের চেয়েও অধিক দুর্ধর্ষ (স্বল্প সংখ্যক নীতিবান চালক এই দায় থেকে মুক্ত)। এছাড়া সরকার নির্ধারিত ভাড়ার কোনো তোয়াক্কা না করেই যাত্রীদের থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। কয়েক দিন আগে শ্যামলী থেকে নিউ মার্কেট যাওয়ার পথে দুটি বাসের পরস্পর আক্রমণাত্মক অবস্থা দেখে ভড়কে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এটাই হয়তো শেষ যাত্রা। এক পর্যায়ে যাত্রীদের তোপের মুখে পড়ে দুজন ড্রাইভার রাস্তায় নেমে একদফা মারামারিও করেছিল। এই যদি হয় সড়কে বাস চালকদের নীতি, তাহলে সড়কে প্রাণ ঝরা কোনোদিনও বন্ধ হবে না। সড়কে শান্তি ফেরাতে প্রয়োজন বাসচালকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা।
মুবাশ্বিরুজ্জামান হাসান
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
