মশার ভয়ানক উত্পাতে জীবন এখন অতিষ্ঠ চট্টগ্রাম নগরবাসীর। নভেম্বরের শুরু থেকে এই উত্পাত ক্রমাগত বাড়ছে। প্রায় ১৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডেই মশার উত্পাত বেড়েছে। নগরবাসী এজন্য মশা নিধন এবং মশার প্রজননস্থলে সিটি করপোরেশন কর্মীদের তত্পরতার অভাবকে দায়ী করছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনসাধারণ অভিযোগ করে জানান, মশা এবং নগরীর অসংখ্য নালানর্দমা ডোবায় জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয়া লার্ভা নিধনে করপোরেশন কর্মীদের তারা গত কয়েক মাসেও দেখতে পাননি। ফলে শুধু রাতেই নয়, দিনের আলোতেও তারা অফিস আদালত এবং বাসাবাড়িতে মশার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। মশার এই অবাধ বিস্তারের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়ও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। নানা ব্র্যান্ডের মশার কয়েল ও স্প্রে ছিটিয়েও ঝাঁকে ঝাঁকে ধেয়ে আসা মশার আক্রমণ থেকে রক্ষা মিলছে না বলে অভিযোগ মিলছে। এছাড়া বাজার থেকে কেনা নানা ধরনের মশার কয়েল জ্বালিয়ে জনসাধারণ সেগুলোর ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়াসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার শিকার হচ্ছেন বলেও চিকিত্সকদের কয়েকটি সূত্র জানায়। তারা বলেন, অনুমোদিত মশার কয়েলের চেয়ে অননুমোদিত চেনা-অচেনা নানা ব্র্যান্ডের মশার কয়েলে বাজার ছেয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নানা ধরনের বিষাক্ত উপাদান দিয়ে সেসব মশার কয়েল তৈরি করা হচ্ছে। এগুলোতে মশা তাড়াবার ক্ষেত্রে সাময়িক উপকারিতা মিললেও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে বিস্তর। অনতিবিলম্বে অভিযান চালিয়ে এসব মশার কয়েল অপসারণের জন্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের পরিবেশবাদী সংগঠন পিপলস ভয়েসের প্রেসিডেন্ট শরিফ চৌহান ইত্তেফাককে বলেন, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে শত শত ডোবা-নালায় ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে জমে থাকা নোংরা পানিতে অবাধে মশা জন্ম নিচ্ছে। গত প্রায় এক বছর ধরে নগরীর ওয়ার্ডগুলোতে মশা ও লার্ভা নিধনে সিটি করপোরেশন কর্মীদের তত্পরতা চোখেই পড়ছে না। শীতের শুরুতে মশার উত্পাত যেভাবে ভয়াবহ মাত্রায় বিস্তার লাভ করেছে এতে নানা ধরনের রোগব্যাধি বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোগ বিস্তারের আশঙ্কাও করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন ইত্তেফাককে বলেন, নগরীতে মশার বিস্তার রোধে আমরা চেষ্টা করছি। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে কয়েক দফা ঘনঘন বৃষ্টিপাতে নগরীর অনেক স্থানে পানি জমে। এছাড়া খাল উদ্ধার ও নালানর্দমা সংস্কারে বিভিন্ন স্থানে বাধ দেওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এই আবদ্ধ পানিতেও মশা জন্ম নিচ্ছে। তাই সাময়িকভাবে মশার উত্পাত বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা ডোবানালাসহ জলাশয়গুলোতে যেখানে জমাট পানি ও প্রজনন ক্ষেত্র রয়েছে সেখানে লার্ভা ধ্বংসের জন্য কেরোসিন তেল ঢেলে দিচ্ছি। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থার নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা যেসব ওষুধ ব্যবহার করছি সেগুলো মশাকে নিস্তেজ করে মারবে। তাত্ক্ষণিকভাবে মারা যায় এমন ওষুধ ব্যবহার করা থেকে বিরত রয়েছি। এছাড়া আমাদের শত শত ট্রাক প্রতিদিন খাল-নর্দমা থেকে বিষাক্ত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করছে।
