বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাওদা হত্যা

মৃত্যুদণ্ডের বদলে আসামি রাসেলের যাবজ্জীবন

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২০, ২২:৪৩

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ছাত্রী সাওদা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাসেল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই রায় দেন। দণ্ডিত রাসেল একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। আদালতে আসামির পক্ষে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মোহাম্মদ শিশির মনির এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান শুনানি করেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সাওদা (১৯) বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে খুন হন। ঐ দিনই               নিহতের মা সাহিদা বেগম বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় রাসেল মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা দুই-তিন জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, সাওদা ও রাসেলের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিক কারণে সাওদা রাসেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

এ মামলায় ২০১৫ সালের ১ জুন বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আসামি রাসেল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামি। ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। আইনজীবী শিশির মনির জানান, হাইকোর্ট রাসেলের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান জানান, আসামি রাসেলের বয়স ঘটনার সময় ২২ বছর ছিল। বয়স কম এবং গত পাঁচ বছর ধরে কনডেম সেলে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসামিকে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট।