উপকথা

নাগাল্যান্ডের লোককাহিনি মিতালি

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১৮:১০

 

অনেক দিন আগের কথা। ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্য। রাজ্যের মানুষ আর প্রাণীর মধ্যে বেশ ভাব। তারা মানুষের মতো কথা বলে। মানুষ ও প্রাণীর অসুখ সারাতে ছিল বনের গাছগাছালি থেকে তৈরি নানা ওষুধ।

একসময় মানুষ আর প্রাণী—দুই-ই বাড়ে। রাজ্যে ভীষণ কোলাহল শুরু হয়। অনেক মানুষের জন্য চাই বিস্তর খাবার। বনের মস্ত বড় গাছগুলো কাটা পড়ে। পশুপাখি থাকার জায়গা হারায়। অনেক প্রাণীর খাবারও জোটে না। গোটা রাজ্যে কেবল মানুষের চাষের জমি! গবাদি পশুর ঘাসের জমিও ফুরিয়ে যায়।

এমনটায় পশুপাখির রাজ্যে মহা গোলযোগ দেখা যায়। তারা মানুষের সব ফসলের খেত নষ্ট করে। চাষিরা প্রাণীর দলকে বাধা দেয়। কোনো সুরাহা হয় না।

রাজ্যের মানুষ মহা বিপাকে পড়ে। চারদিকে খাবারের অভাব। শেষমেষ কয়েকজন নিরুপায় চাষি কবিরাজের কাছে যায়।

সব শুনে কবিরাজ বলে, ‘পশুপাখির অসুখে কোনো সাহায্য করা চলবে না। তবেই বিনা চিকিত্সায় সব প্রাণী মারা যাবে।’

কবিরাজের এমন আচরণে প্রাণীরা আরো উত্তেজিত হয়। পশুপাখির দল চিত্কার করে, ‘এটা অন্যায়। এই রাজ্যে মানুষের আগে আমরা এসেছি।’

পশুপাখি পালটা আক্রমণ চালায়। তারা রাজ্যের সব ঔষধিগাছ উপড়ে ফেলে। বড় গাছের ডালপালা ভাঙে। লণ্ডভণ্ড করে সব চাষের জমি।

ঔষধিগাছের অভাবে বন্ধ হয় কবিরাজের চিকিত্সা। রাজ্যের অনেক মানুষ ও প্রাণী জীবন হারায়। ভীষণ হতাশায় কবিরাজ মারা যায়।

রাজ্যের মানুষ দিশেহারা। বিপদে পরামর্শ দেয়ার আর কেউ নেই। সব মানুষ মিলে ঠিক করে, প্রাণীর দল চিকিত্সার ঔষধিগাছ খেয়ে ফেলেছে। এখন থেকে আমরা পশুপাখির মাংস খাব।

রাজ্যে শেষ হয় মানুষ আর প্রাণীর লড়াই।

রূপান্তর :কুতুব আজাদ