পাখিশিকারিদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ২১:২৭

চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবন

চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

চিতলমারীর চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে পাখিদের অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। সারা বছরই এখানে নানা প্রজাতির পাখিদের কলকাকলিতে ভরে ওঠে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এখানে পরিযায়ী পাখি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাখির আগমন ঘটে। আর এ সময় বাড়ে পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য। তারা ফাঁদ, জাল ও বন্দুক দিয়ে পাখি শিকার করছে। গত মঙ্গলবার সকালে মিনি সুন্দরবনের ভেতর থেকে আহত আবস্থায় একটি সারস পাখিকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী। উদ্ধারের কিছুক্ষণ পর পাখিটি মারা যায়। পাখিটির শরীরের গুলির আঘাত ছিল। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পাখিপ্রেমীরা। তারা এসব অসাধু শিকারিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

স্থানীয় পাখিপ্রেমী ও মিনি সুন্দরবন রক্ষায় এগিয়ে আসা মো. ইজাবুল মোড়ল হতাশা ব্যক্ত করে জানান, এ ধরনের কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন। বিলুপ্ত প্রজাতির এমন একটি সারসের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা খুবই দুঃখজনক। প্রাণী ও পাখি বিশেষজ্ঞ শরীফ খান জানান, সারস এখন আমাদের দেশে বিলুপ্ত প্রায়। এদের রক্ষা করা খুবই জরুরি। এভাবে যদি পাখি নিধন করা হয় তাহলে আগামীতে এর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।

জেলা বন বিভাগের ষাটগম্বুজ রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চিন্ময় মধু জানান, পাখি শিকারের সঙ্গে যারা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চিতলমারী থানার ওসি মীর শরিফুল হক জানান, পাখি শিকারের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জরুরিভাবে এসব শিকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।