বাজারে নতুন ধান উঠলেও কমছে না চালের দাম!

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩১

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

প্রতি বছর নতুন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গে চালের দাম কমলেও ধানের জেলা দিনাজপুরে এবার চালের বাজারের চিত্র উলটো। বাজারে নতুন ধান ওঠলেও ধানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। ১৫ দিনের ব্যবধানে বাজারে চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা, আর বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১০০ টাকারও বেশি। চাল বিক্রেতারা বলছেন, মিলমালিকরা দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বেড়েছে চালের দাম। আর মিলমালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় উত্পাদন খরচের সঙ্গে সংগতি রেখেই তাদের চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার দিনাজপুরের প্রধান চালের বাজার বাহাদুরবাজারে গিয়ে দেখা যায়, ১৫ দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা বিআর-২৮ জাতের চাল ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪৫০ টাকায়, বিআর-২৯ জাতের চাল ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়, মিনিকেট চাল ২ হাজার ৫৫০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায় এবং প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) নতুন স্বর্ণ চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকায়। অর্থাত্ ১৫ দিনের ব্যবধানে বাজারে প্রকারভেদে প্রতি বস্তা চালের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

চাল বিক্রেতা লিয়াকত আলী জানান, প্রতি বছর নতুন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে চালের দাম কমে আসে। কিন্তু এবার তার চিত্র উলটো। নতুন ধান বাজারে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই এবার বাড়ছে চালের দাম। মিলমালিকদের কাছ থেকে বেশি দামে চাল কিনে এনে বাধ্য হয়েই বেশি দামে তাদের চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে এখনো নতুন ধানের চাল পুরোপুরি বাজারে আসতে শুরু করেনি বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির নেতা সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন জানান, বাজারে ধানের দাম বেশি থাকলে চালের দামও বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার নতুন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ধানের দাম বেশি। তাই বেশি দামে ধান কিনে চাল বানাতে তাদের উত্পাদন খরচও বেশি পড়ছে। এজন্যই চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে ধানের দাম বেশি থাকার সুফল হিসেবে তিনি জানান, এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। কৃষকরা লাভবান হলে আগামীতে ধানের উত্পাদনও বাড়বে।