নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে চাই আন্তরিক সহযোগিতা

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩৬

অ্যাকশনএইড আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে শুধু সরকারের ওপর দায়িত্ব দিলেই হবে না। প্রয়োজন সবার আন্তরিক সহযোগিতা। কারণ সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ ছাড়া সরকারের একার পক্ষে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব নয়। গতকাল  অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সহিংসতামুক্ত ভবিষ্যত্ গড়ার লক্ষ্যে’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন অতিথিরা। আর এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৬ দিনব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২০-এর উদ্বোধন করে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়েবিনারে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সহিংসতাগুলোর চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয় এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় খুঁজে বের করতে আলোচনা হয়। ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অতীতে সিটি করপোরেশনে নারী ও শিশুবিষয়ক কোনো পৃথক কমিটি ছিল না, আমরা নতুন করে এবিষয়ক একটি কমিটি গঠন করেছি। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের জন্য আর কী কী করা যায়, তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, মহাখালীতে নারীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ডিএনসিসি।

অনু্ষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মালটিসেক্টোরাল প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আবুল হোসেন। তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত চেষ্টা করতে হবে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, সব ক্ষেত্রে নারীদের নিজের ওপর সাহস রাখতে হবে। নারীসহ সবাইকে সচেতন করতে হবে। নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীর নিজের কোনো দোষ নয় বরং নির্যাতনকারীই দোষী।

ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দুঃখজনক উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন  বলেন, ‘আমাদের সামাজিক মাইন্ডসেট যদি পরিবর্তন না করা যায়, তাহলে কেবল আইন দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার নারীকে সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন)  সিফাত ই-রব্বান বলেন, বর্তমান পুলিশ প্রশাসন নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে অত্যন্ত সংবেদনশীল। নারী পুলিশ দ্বারা পরিচালিত উইমেন ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে ভুক্তভোগী নারীদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়। অভিযোগ করার জন্য হটলাইন নম্বর চালু করা  হয়েছে। বিডি পুলিশ হেল্প লাইন নামে একটি অ্যাপও রয়েছে। সাইবার স্পেসে মেয়েদের হয়রানি প্রতিরোধে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন নামে সম্প্রতি একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে, যা নারী পুলিশ দ্বারা পরিচালিত। সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির।