ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণসহ দোষীদের শাস্তি দাবি

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩৫

তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের আট বছর

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের আট বছর পূর্তি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্মরণে শোক র্যালি, মোমবাতি প্রজ্বালন, পথসভা, মানববন্ধন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও পোশাক শ্রমিকরা। গতকাল সকাল থেকে নিশ্চিন্তপুর এলাকার তাজরীন ফ্যাশনের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা নিহত শ্রমিকদের হত্যাকাণ্ডের বিচার, নিহত, আহত ও নিখোঁজ শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণসহ পুনর্বাসনের দাবি জানান।

গতকাল সকাল থেকে নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাজরীন গার্মেন্টসের সামনে জড়ো হতে থাকেন। গার্মেন্টসের সামনে অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানান। এ সময় নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিক ছাড়াও বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিক নেতারা বলেন, আট বছর আগে এই দিনে কারখানা কর্তৃপক্ষ গেট আটকে দিয়ে ১১৩ জন শ্রমিককে কারখানার ভেতরে পুড়িয়ে মেরেছিল। এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যা বিভিন্ন তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু সরকার এত দিনেও খুনি দেলোয়ারের শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারায় সারা দেশের শ্রমিকদের বুকে আগুন জ্বলছে। এ সময় শ্রমিক নেতাকর্মীরা নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহতদের চিকিত্সাসেবা দেওয়া, ভুক্তভোগী পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা, পরিবারের সক্ষম সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাসহ গার্মেন্টস মালিক দেলোয়ারের ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

পথ সভায় গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, তাজরীনের ঘটনা নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটা কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশনে আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হয় ১১৩ শ্রমিক এবং আহত হয় প্রায় পাঁচ শতাধিক। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানার এসআই খায়রুল ইসলাম অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক এ কে এম মহসিনুজ্জামান খান। এতে তাজরীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ও চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার মিতাসহ প্রতিষ্ঠানটির ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।