সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা মুনীরুজ্জামান আর নেই

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ২২:০৪

দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার মুনীরুজ্জামান আর নেই। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩১ অক্টোবর থেকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। কোভিড-১৯ থেকে মুক্ত হলেও পরবর্তী সময়ে নানা শারীরিক জটিলতায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকেরা। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন।      ১৯৭০ সালে সিপিবির মুখপত্র সাপ্তাহিক একতায় সাংবাদিকতা শুরু করেন মুনীরুজ্জমান। এক যুগ ধরে দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। এর আগে সংবাদের সম্পাদকীয় বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা অবস্থায় বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তিনি দীর্ঘদিন কমিউনিস্ট পার্টির ঢাকা জেলা কমিটির সম্পাদক ছিলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবসহ নানা পেশাদার সংগঠনের সদস্য ছিলেন খন্দকার মুনীরুজ্জামান।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

দুপুরে পল্টন জামে মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে বিকেলে মরদেহ জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অব অনার) প্রদান করে পুলিশের একটি চৌকস দল। বিকেলে মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হন সাংবাদিক খন্দকার মুনীরুজ্জামান।

জাতীয় প্রেসক্লাবে মরহুমকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া তথ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। এ সময় আরো শ্রদ্ধা জানায় বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, ঐক্য ন্যাপ, পিআইবি, প্রেস কাউন্সিল, ভারতীয় হাইকমিশন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেসক্লাব, সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সংবাদ পরিবার, উদীচী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স (এমসিসিআই), ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব), বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, ঢাকাস্থ ব্রাক্ষণবাড়িয়া সাংবাদিক ফোরাম ও সরাইল সাংবাদিক ফোরাম।

তাকে শ্রদ্ধা জানান সংবাদের সম্পাদক আলতামাস কবির, ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্ত, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু ও সিনিয়র সাংবাদিকগণ। এছাড়া শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। জানাজার আগে মুনীরুজ্জামানের বড় ভাই রফিকুজ্জামানসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ স্মৃতিচারণ করেন।

খন্দকার মুনীরুজ্জামান ১৯৪৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। একই সময়ে তিনি বাম ঘরানার রাজনীতিতে যুক্ত হন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। দৈনিক সংবাদে তিনি সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন। খন্দকার মুনীরুজ্জামান সাংবাদিকতা ছাড়াও কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, চিত্র সমালোচনা এবং নিয়মিত কলাম লিখতেন।

জাতীয় পার্টি-জেপির শোক

খন্দকার মুনীরুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম। শোকবার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মুনীরুজ্জামানের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তার জ্ঞান ও লেখনির ক্ষমতা। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে অংশগ্রহণ করতেন এবং নিঃসংকোচে সত্য প্রকাশ করতেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।