নালিতাবাড়ীতে অতিরিক্ত বালুবোঝাই ট্রাকের চাপে সড়ক বেহাল

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ২২:২১

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অতিরিক্ত বালু বোঝাই ১০ চাকার ট্রাক চলাচল করায় সড়কগুলো ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে নির্মাণাধীন সড়কগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। পৌর শহরের আড়াইআনী বাজার থেকে কেরেঙ্গাপাড়া ভায়া ঘাগপাড় ১৩ কিলোমিটার নির্মাণাধীন সড়কটি ভেঙে যাচ্ছে। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ঐ পথে চলাচলকারীদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পৌর শহরের ঐ ১৩ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন ও নদী শাসনের জন্য দুই ভাগে দরপত্র আহ্বান করে। এতে প্রথম অংশে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা আর দ্বিতীয় অংশে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা।                  আড়াইআনী বাজারের জিরোপয়েন্ট থেকে ১২ ফুট প্রশস্ত ও তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্য প্রথম অংশের কাজটি পায় ‘রত্না অ্যান্ড সাহারিয়ার জেভি এন্টারপ্রাইজ’ এবং দ্বিতীয় অংশের ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য আর ১২ ফুট প্রশস্ত প্রায় ১২ কোটি টাকার কাজটি পায় ‘মেসার্স রাফিয়া কনস্ট্রাকশন’। এর মধ্যে প্রথম অংশে ৭২৫ মিটার সিসি ব্লক ফেলে ভোগাই নদী শাসন এবং তিন একর জমি একোয়ার রয়েছে। প্রথম অংশের তিন কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আর দ্বিতীয় অংশে প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষে হলেও বাকি রয়েছে সাড়ে ৪ কিলোমিটার।

এলাকার এমপি সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর প্রচেষ্টায় কাজ শুরু হলেও ১০ চাকার অতিরিক্ত বালুবোঝাই ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলের ফলে নির্মাণাধীন সড়কটি ভেঙে খানাখন্দে ভরে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সড়কের পাশের বাসিন্দা আব্দুর রউফসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, সড়কের কাজ শেষ হলে বাজারে ধান-শাকসবজি পরিবহনসহ চলাচলে আমাদের অনেক সুবিধা হবে। এছাড়াও অল্প সময়ে সীমান্ত মহাসড়কে যাওয়া যাবে। প্রথম অংশের ঠিকাদারি কাজের অংশিদার জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা সময় মতো কাজ প্রায় শেষ করে আনলেও ১০ চাকার ৪০/৫০ টন ওজনের ভিজা বালুবোঝাই ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের পক্ষে এক কাজ দুই বার কাজ করা সম্ভব নয়।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন গতকাল মঙ্গলবার বলেন, এলজিইডির সড়কগুলোর ধারণক্ষমতা ১০ টন। এ ব্যাপারে রাস্তার শুরুতেই সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও লাগানো হয়েছে। কিন্তু ১০ চাকার ট্রাকগুলো ৪০/৫০ টন ওজনের ভিজা বালু বহন করায় রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।