অবশেষে কিছুটা নমনীয় হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আসন্ন নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে তিনি ‘ভালো লড়াই’ অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন। বাইডেন টিম ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতিতে গতি আনাসহ জাতির সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিল। ট্রাম্পের সম্মতিকে স্বাগত জানিয়েছেন বেশ কয়েক জন রিপাবলিকান সিনেটরও। খবর সিএনএন ও বিবিসির।
গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। চার দিনের মাথায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের জয় নিশ্চিত হয়। কিন্তু এখনো পরাজয় মেনে নেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের ফল উলটে দিতে তার টিম পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে দুই ডজনের বেশি মামলা করে। কিন্তু বেশির ভাগ মামলা খারিজ হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য জর্জিয়ায় দ্বিতীয় দফায় ভোট গণনার পর বাইডেনের জয় নিশ্চিত করে ফল সত্যায়ন করা হয়েছে। যদিও আবারও গণনার অনুরোধ করেছে ট্রাম্প টিম। মিশিগানেও পাত্তা পাননি ট্রাম্পের আইনজীবীরা। সেখানেও সোমবার বাইডেনকে জয়ী ঘোষণা করে ফল সত্যায়ন করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মিশিগানে বাইডেনের জয় সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার পর কার্যত ট্রাম্প বুঝে গেছেন তার জয়ের পক্ষে তিনি এতদিন যা বলেছিলেন, সেই যুক্তি ধোপে টিকবে না। তার আশা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতির মুখে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছেন।
এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, দ্য জেনারেল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএসএ) প্রধান এমিলি মার্ফিকে বলেছি, নিয়ম মেনে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য যা করার করুন। আমার টিমকেও আমি একই পরামর্শ দিয়েছি। তবে তিনি বলেছেন, তাকে জোর করে ভোটে হারানো হয়েছে। এ নিয়ে তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। এখানে দেখার বিষয় হলো, ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ট্রাম্পের পরাজয় মেনে নেওয়াটা জরুরি নয়।
ট্রাম্পের সম্মতির পর জিএসএ আপাতত স্বীকার করেছে যে, বাইডেন ভোটে জয়ী হয়েছেন। জিএসএর প্রশাসক এমিলি মার্ফি জানিয়েছেন, তিনি নতুন প্রেসিডেন্টের কাজ পরিচালনার জন্য ৬৩ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছেন। জো বাইডেনকে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের ফল সার্টিফিকেশন ও আইনি চ্যালেঞ্জসহ সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তার সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
নির্বাচনের পর রুটিন কাজ হিসেবে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই রাজনৈতিক শিবির থেকেই এমিলি মার্ফির তুমুল সমালোচনা হচ্ছিল। ডেমোক্র্যাটরা এটি শুরু করতে তাকে গত সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল।
জিএসএর কাজ শুরুর ঘোষণার পর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা বাইডেন টিমকেই সমর্থন জানাচ্ছি। জাতীয় নিরাপত্তার কথা ভেবে এবং জনগণের সমর্থন কোন দিকে রয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বাইডেন এবং তার টিমকে প্রয়োজনীয় নথি এবং অন্য সরকারি রেকর্ড দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারে। ইতিমধ্যে বাইডেনের ট্রানজিশন ওয়েবসাইট মার্কিন সরকারের ডোমেইনে বদলে গেছে।
