পাপুলের স্ত্রী ও কন্যার সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদকের নোটিশ

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ২৩:৫৩

জাতীয় সংসদের লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী সহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম ও তার মেয়ে ওয়াইফা ইসলামের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদক পরিচালক আকতার হোসেন আজাদ স্বাক্ষরিত পৃথক এ নোটিশ দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তাদের দুজনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের আগামী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী কমিশনে দাখিল করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দাখিল করলে দুদক আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গত ১১ নভেম্বর দায়েরকৃত একটি মামলার তদন্তের স্বার্থে দুদক এ নোটিশ জারি করেছে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গত ১১ নভেম্বর কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং মেয়ে ওয়াইফা ইসলামের বিরুদ্ধে দুদক একটি মামলা দায়ের করে। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে দায়ের করা ঐ মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রতারণার আশ্রয়ে আসামি জেসমিন প্রধান তার নিজ জন্ম তারিখের তথ্য গোপন করে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর হতে পাসপোর্ট গ্রহণ ও তার নিজ নামে অপরাধলব্ধ ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অস্থাবর সম্পদ অবৈধ উপায়ে অর্জন করে তা নিজ ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। 

অন্যদিকে জেসমিন প্রধান, কাজী সহিদ ইসলাম, সেলিনা ইসলাম ও ওয়াইফা ইসলাম তাদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থ এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে জমা প্রদান করে। এরপর তারা উক্ত এফডিআরসমূহের বিপরীতে আসামি জেসমিন প্রধানের নামীয় ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে ২৫ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকার লোন এগেইন্সট এফডিআর (ওভার ড্রাফটট) সুবিধা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়ে পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যাংকে জেসমিন প্রধানের নিজ নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামীয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২০১২ সালের ২ জুন হতে ২০২০ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে জেসমিন প্রধানের অপরাধলব্ধ বর্ণিত ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭ টাকাসহ তাদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত মোট ১৪৮ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬১ টাকা জমা ও ১৪৮ কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৮ টাকা উত্তোলন করে তা বৈধকরণের লক্ষ্যে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করে অবস্থান গোপন করার মাধ্যমে ছদ্মাবৃত করে আসামিগণ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরেফ আবাসিক এলাকা থেকে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পাপুলকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে দেশটিতে মানব পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারের পর পাপুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন কুয়েতের আদালত। তিনি বর্তমানে দেশটির কারাগারে আছেন।