দেড় যুগ আগে সাতক্ষীরায় তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলার বিচার চলবে। মামলার বিচারকাজ স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এ মামলার আসামি রাকিবুর রহমানের বিচার শিশু আদালতে করার বিষয়টিও নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আদালতে আসামিপক্ষে এম মাহবুবউদ্দিন খোকন ও রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত ধর্ষণের শিকার মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে আহত হন শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কয়েক জন নেতাসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা। ঐ ঘটনায় কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে তখন তা নেওয়া হয়নি। এক যুগ পর ২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা আদালতে নালিশি মামলা করেন কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন। আদালত অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৭ মে বিএনপির তত্কালীন এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৭ সালের ১০ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। রকিব নামে এক আসামি নিজেকে শিশু দাবি করে মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। ঐ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা বাতিল প্রশ্নে হাইকোর্ট রুল জারি করে। ঐ রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৮ অক্টোবর হাইকোর্ট নিম্ন আদালতে মামলার বিচারকাজ চলার আদেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ঐ আসামি। এরই মধ্যে নিম্ন আদালতে ৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
