রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) একমুখী চিন্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট। তাদের দাবি, আগামী ঢাকার স্বপ্ন পূরণে যে খসড়া ড্যাপ করা হয়েছে এতে জনসম্পৃক্ততা নেই। ড্যাপে বিভিন্ন বিষয় উঠে আসলেও তা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা উল্লেখ নেই। এছাড়া ড্যাপে সব ধরনের নাগরিকের কথাও উঠে আসেনি। গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ড্যাপে বলা হয়েছে খেলার মাঠ করা হবে। অথচ খেলার মাঠ কীভাবে করবে তার উল্লেখ নেই। জমি কই পাবে, সরকার কি জমি অধিগ্রহণ করবে। কিছুই উল্লেখ নেই। দখল করা খালগুলো উদ্ধার করা হবে বলা হয়েছে, তবে সেটি কীভাবে উদ্ধার করা হবে তার উল্লেখ নেই। এটি শুভংকরের ফাঁকি। যেসব কারণে ২০১০ সালের ড্যাপ বাস্তবায়ন করা যায়নি, সেসব কারণ এই ড্যাপেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়, খসড়া ড্যাপ এসডিজির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ দারিদ্র্য নগরে আমরা কীভাবে চ্যালেঞ্জ নেব এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। সবার জন্য নিরাপদ শহর হবে কীভাবে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ড্যাপে বস্তিবাসীর সম্পৃক্ততার কোনো বক্তব্য নেই। অথচ এ শহরে ৪০ শতাংশ বস্তির মানুষ। জনস্বাস্থ্য বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। জলবায়ুর পরিবর্তনেও ভালোভাবে উপস্থাপন হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে স্থপতিরা আরো বলেন, দ্রুত নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের কারণে ভবিষ্যতের ঢাকা হওয়া উচিত মহিলা, শিশু ও ভিন্নভাবে সক্ষমদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর। সব আয়ের মানুষকে সমান অধিকার এবং সুবিধা প্রদান। জলবায়ু পরিবর্তন এবং মহামারি মোকাবিলার জন্য একটি অভিযোজিত এবং স্থিতিস্থাপক শহর। উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্যসম্মত প্রজন্ম তৈরির জন্য ঢাকা একটি স্বাস্থ্যকর শহর হওয়া উচিত। এছাড়া ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালাকে প্রস্তাবিত ড্যাপে বৈরী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এ বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি প্লটে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত পরিমাণ ভূমি উন্মুক্ত রাখা, প্রতিটি প্লটে আলো বাতাসসহ সবুজের সংস্থান এবং বৃষ্টির পানি রিচার্জ সুবিধা সামগ্রিকভাবে ভবনে বসবাসরত জনগণের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই বিধিমালার নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ দেওয়ার জন্যই কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে স্থপতি এহসান খান বলেন, ‘আমরা ড্যাপ প্রত্যাখ্যান করছি না। আমরা চাই, এর ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করা হোক। সব মানুষের মতামতের ওপর ভিত্তিতে ড্যাপ প্রণয়ন করা হোক।’ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, অভিভাবকহীন হওয়ায় ২০১০-এর ড্যাপ বাস্তবায়ন হয়নি। উঁচু ভবনে সমস্যা নয়, সমস্যা অনিয়মে। এই ড্যাপে বলা হয়েছে অর্থ দিলে সব ঠিক। তাহলে কেন র্যাংগস ও বিজিএমই ভবন ভাঙা হলো। অনিয়ম হলে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তিনি আরো বলেন, রাজউককে সংস্কার করতে হবে। তাদের সংস্কার ছাড়া তাদের এ দায়িত্ব দেওয়াই অনিয়ম মনে করি। এটি একটি দলিল। তাই এই দলিল চূড়ান্ত হওয়ার আগেই প্রতিবাদ করতে হবে। এই দলিল কোনোভাবে প্রহসনের মাধ্যমে বের হতে দিব না। আমরা এর যথাযথকরণ, সংশোধন, পরিশীলিত করার ব্যাপারে মত দিচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি জালাল আহমেদ, সাবেক সভাপতি কাজী গোলাম নাসির, আবু সাইদ এম আহমেদ, ফরিদা নিলুফার প্রমুখ।
