অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) ঘটনাস্থল পরিদর্শন
ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
ফুলবাড়িতে সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছনার প্রতিবাদসহ লাঞ্ছনাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো গতকাল বুধবার দিনব্যাপী কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন উপজেলা ভূমি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে উপজেলার পৌর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমিজমা খাজনা খারিজ, নামজারি ও ভূমিকর পরিশোধ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন স্থানীয়রা। সকাল থেকেই উপজেলার পৌর ভূমি অফিসসহ সাত ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপজেলা ভূমি অফিসে সমবেত হয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। এ সময় আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন এলুয়ারি ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা লুত্ফর রহমান, আলাদিপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ক্ষীতিশ চন্দ্র রায়, বেতদীঘি ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নাঈমুল আহসান ও লাঞ্ছনার শিকার পৌর ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান। সভায় বলা হয়, ভূমি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানকে লাঞ্ছনাকারী নবিউল ইসলামে গ্রেফতারের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার জেলা ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে জেলাব্যাপী অর্ধদিবস কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী নবিউল ইসলাম লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহলের ইন্ধনে তাকে সমাজে হেয় করার জন্যই ওই ভূমি কর্মকর্তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম চৌধুরীকে সাথে নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহাবুবুর রহমান ঘটনা তদন্তে ফুলবাড়ি উপজেলা ভূমি অফিসে আসেন। এ সময় তিনি লাঞ্ছনার শিকার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানসহ অন্যদের সাথে কথা বলেন। এ সময় তিনি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে হুমকি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়াসহ উপজেলা ভূমি অফিসকে সিসি ক্যামেরায় আওতায় আনার নির্দেশ দেন। একই সাথে জমিজমা বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারী অর্থ লেনদেন কিংবা হয়রানি করলে তাদেরকে দুদকে সোপর্দসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করে দেন।
থানার ওসি শেখ হাসিম হাবিব বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, জমিজমা বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী জনসাধারণকে হয়রানি করলে তার দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। একই সাথে অন্যায়ভাবে কোনো কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীকে কেউ লাঞ্ছিত করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত উপজেলা ভূমি অফিসকে সিসিটিভির আওতায় আনা হবে।
