যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাষ্ট্র আবার ফিরে এসেছে। বিশ্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে নয় বরং বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। জো বাইডেন তার নতুন প্রশাসনের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেছেন। তার নতুন ঘোষিত নিয়োগ অনুমোদন পেলে এভ্রিল হাইনেস হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রথম নারী পরিচালক। আর আলেহান্দ্রো মায়োর্কাস হবেন প্রথম ল্যাটিনো হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ফেক ব্যালট’-এর নির্বাচনে তিনি কখনোই পরাজয় মেনে নেবেন না। তবে বাইডেন জানিয়েছেন ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া আন্তরিকভাবে এগিয়ে চলেছে। খবর সিএনএন, বিবিসি ও রয়টার্সের।
বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র :জো বাইডেনের প্রশাসন হবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ এবং নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। পুরোনো ধাঁচের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবেন তিনি। মঙ্গলবার (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) ডেলাওয়ারের উইলমিংটনে প্রশাসনের ছয় কর্মকর্তার নাম ঘোষণাকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করব। যুক্তরাষ্ট্র ফিরে এসেছে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে, পেছনে সরে যেতে নয়। যুক্তরাষ্ট্র আবারও প্রধানের আসনে বসবে, মিত্রদের দূরে ঠেলবে না এবং আমাদের মূল্যবোধ রক্ষায় দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, চার বছর আগে ডেমোক্র্যাটরা হোয়াইট হাউজ ছাড়ার পর বিশ্ব বদলে গেছে। চীনের উত্থান হয়েছে এবং আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করেছে। রাশিয়া আঘাত করার সুযোগ খুঁজেছে।
ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া
আন্তরিকভাবে এগোচ্ছে
জো বাইডেন জানিয়েছেন, তার নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আন্তরিক পরিবেশে এগোচ্ছে। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, করোনা মহামারি, টিকা বিতরণ পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। তিনি জানান, নির্বাচনের পর এখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো আলাপ হয়নি। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া দেরিতে শুরু হলেও তা তার প্রশাসনের কাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এখন থেকে সর্বোচ্চ গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য পেতে শুরু করবেন।
কখনোই পরাজয় মানব না : ট্রাম্প
নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে সায় দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি ভোট জালিয়াতির নির্বাচনের ফল কখনোই মেনে নেবেন না বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এই টুইট বার্তায় তিনি এ কথা জানান। এছাড়া কলম্বিয়া বুগল নামের এক জনের বার্তা রিটুইট করেন ট্রাম্প। তাতে বলা হয়েছে, আমি কোনো কিছুই মানিনি। ট্রাম্পের আরেকটি রিটুইটে সশরীরে আবারও ভোটের আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি নিয়ে বুধবার (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) একটি শুনানি অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথা পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের।
যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে
প্রশাসনের দুই মন্ত্রীসহ ছয় কর্মকর্তার নাম ঘোষণা করেছেন জো বাইডেন। তার ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন অ্যান্টনি ব্লিনকেন। নাম ঘোষণার পর ব্লিনকেন বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগিগরই নম্রতা এবং আস্থার সঙ্গে সমতার সম্পর্ক গড়ে তুলবে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক দূত করা হচ্ছে। কেরি বলেছেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বিশ্বকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রথম ল্যাটিনো হিসেবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মন্ত্রী হচ্ছেন আলেহান্দ্রো মায়োর্কাস।
ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে এভ্রিল হাইনেসের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে জ্যাক সুলিভানকে। অন্যদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে বাইডেন বেছে নিয়েছেন লিন্ডা থমাস-গ্রীনফিল্ডকে। জন কেরি এবং জ্যাক সুলিভান ছাড়া অন্যসব নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন দরকার হবে। সাধারণত নতুন প্রেসিডেন্টের কোনো মনোনয়ন প্রত্যাখ্যাত হয় না। সর্বশেষ ১৯৮৯ সালে বেশ কিছু মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।
ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক প্রধান জ্যানেট ইয়েলেনকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও মঙ্গলবার সেই ঘোষণা আসেনি। এছাড়া ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হতে লড়াই করা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং এলিজাবেথ ওয়ারেনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বাইডেন।
