আদালতের রায়ে ভাঙন থেকে বাঁচল ৪৭ সংসার

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২০, ২২:১৮

আদালতের একটি রায়ে পালটে গেছে ৪৭টি পরিবারের দৃশ্যপট। বিচ্ছেদের বদলে স্বামী-স্ত্রী আবার হাসলেন। স্ত্রীর ঠাঁই হলো স্বামীর ঘরে। স্বামীও ফিরে পেলেন তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে। সন্তানরা ফিরে পেয়েছে বাবা নামের নিশ্চিন্ত ভরসার স্থান। 

গতকাল বুধবার ৪৭ জন স্বামীকে তাদের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন  ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন বাদী-বিবাদীকে (স্বামী-স্ত্রী) একত্রে বসবাস করার শর্তে আপস নিষ্পত্তি করে দিয়ে এই ব্যতিক্রমী রায় দেন। সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের রায়ের প্রশংসা করেছে সুনামগঞ্জ তথা সিলেট অঞ্চলের সব শ্রেণির মানুষ। রায় ঘোণার পর স্বামী-স্ত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।  আপসনামায় ৪৭ দম্পত্তি অঙ্গীকার করেন, সন্তান ও পরিবারের অন্যদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে সংসারধর্ম পালন করবেন। সংসারের শান্তি বিনষ্ট হয় এমন কোনো কাজ তারা করবেন না। স্বামী-স্ত্রী উভয় উভয়কে যথাযোগ্য মর্যাদা দেবেন। তারা আরো অঙ্গীকার করেন, স্বামী-স্ত্রী বা তার মা-বাবা ও অভিভাবকের কাছে যৌতুক দাবি করবেন না। পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য ও বিরোধ দেখা দিলে নিজেরা আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করবেন। স্বামী কখনো স্ত্রীকে নির্যাতন করবেন না। স্ত্রীকে নির্যাতন করলে বা যৌতুক দাবি করলে স্ত্রী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। 

সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বলেন, আদালত পৃথক ৪৭টি নারী-শিশু নির্যাতন দমন মামলায় একসঙ্গে যুগান্তকারী রায় দেন। সব মামলার বাদী-বিবাদীকে আপসে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা ঝগড়া-বিবাদ না করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করবেন।

গতকাল আদালতের হস্তক্ষেপে স্বামীরা নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসবেন এমন খবরে স্ত্রীরা ফুল নিয়ে এজলাসের সম্মুখে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার দৃশ্যটি ছিল সত্যি মনোহর। এ সময় অনেক স্বামী-স্ত্রীর চোখের কোণে ভিজে উঠতে দেখা যায়।