তিস্তায় সেতু নির্মাণে ৪৫ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি জালিয়াতির অভিযোগে পিটিএসএল মৈত্রী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাবুবুর রহমান ও এলজিইডির সাবেক প্রকল্প পরিচালক খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ তিন জনের বিরুদ্ধে ১৭ নভেম্বর মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থার উপসহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজ মামলাটি করেন। দুদকের এই মামলার সূত্র ধরে মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আরো জাল-জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন কয়েক জন ভুক্তভোগী। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায়, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে অভিযোগকারীদের মধ্যে একাধিক ব্যবসায়ীও রয়েছেন। অভিযোগপত্রে তারা প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সংসদীয় কমিটিরও হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এলজিইডির অধীনে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর ওপর প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে অংশ নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে যৌথভাবে ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন ও পিটিএসএল মৈত্রী লিমিটেড সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। কাজটি পেতে প্রতিষ্ঠান দুটি সাড়ে ৬ কোটি টাকার ভুয়া টেন্ডার সিকিউরিটি এবং ৩৯ কোটি টাকার ভুয়া পারফরম্যান্স সিকিউরিটিও জমা দেয়। ইউনিয়ন ব্যাংকের পান্থপথ শাখার নামে এসব ভুয়া সিকিউরিটি নথি জমা দেওয়া হয়। পরে সেগুলো যাচাই করলে জমা দেওয়া সিকিউরিটির সব নথি জাল বলে ধরা পড়ে। সিকিউরিটি জালিয়াতির দায়ে প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যাদেশ বাতিল করে এলজিইডি।
তিনটি সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, পিটিএসএল মৈত্রী লিমিটেডের এমডি মাহাবুবুর রহমানের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তারা প্রতারণার শিকার হন। বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে ব্যবসার সুযোগ করে দেবেন বলে দেশের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে প্রথমে চুক্তিবদ্ধ হন মাহবুবুর রহমান। চুক্তিতে স্থানীয় কোম্পানির নির্ধারিত শেয়ারের মালিকানার পাশাপাশি যৌথ ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফার নির্ধারিত ভাগের আগাম অর্থও নিয়ে নিতেন তিনি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পরে দেখা যেত বিদেশি যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে এবং বিদেশি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির যে কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া ছিল।
রেলপথ বিভাগে ব্যবসা করা একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি ও বিদেশি একটি কোম্পানির ভুয়া নথিপত্র দেন মাহবুবুর রহমান। সরল বিশ্বাসে সরকারি দপ্তরে ঐসব কাগপত্র জমা দিয়ে পরে জানতে পারেন সবকিছু ছিল বানোয়াট। এ কারণে ঐ ব্যবসায়ী এক বার রেলপথ বিভাগের সঙ্গে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কালো তালিকাভুক্তও হয়েছিলেন। আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে ব্যবসা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মাহবুবুর রহমান তার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হন এবং মুনাফা ধরে কয়েক শতাংশ অনুযায়ী অগ্রিম টাকা নেন। কিন্তু পরে সরকারি অনুসন্ধানে ধরা পড়ে, দাখিলকৃত সব কাগজপত্র জালিয়াতি করা। বিদেশি যে কোম্পানির প্যাড ও কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে, পরে সংশ্লিষ্ট বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারা যায় যে, ঐসব কাগজপত্র ভুয়া। এমনকি পরে উলটো মাহবুবুর রহমান মামলা করেছেন দেশি ঐ কোম্পানির বিরুদ্ধে।
