ঢাকার কেরানীগঞ্জে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোতে এক কর্মকর্তাকে থাপ্পড় মেরে ফাইল ছিঁড়ে ফেলার পর কাস্টমসের যুগ্ম-কমিশনার লুত্ফুল আজমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তিনি মুক্তি পান। গতকাল বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। কাস্টমসের অন্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুগ্ম-কমিশনার লুত্ফুল আজম সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ফাইলপত্র ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি কখনো কখনো কর্মকর্তাদেরও গায়ে হাত তোলেন এই কর্মকর্তা।
পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোর প্রধান কাস্টমস কমিশনার এ টি এম নুরুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, ‘লুত্ফুল আজমের বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে আমি নিজেই তাকে কাউন্সেলিং করেছি। লুত্ফুল আজমের অভিযোগ অধিকাংশ কর্মকর্তা নোট লিখতে পারেন না। এই কারণে তিনি ফাইল ছিঁড়ে ফেলেন। আমি তাকে বুঝিয়েছি, কেউ লিখতে না পারলে তাকে শিখিয়ে নিন। কিন্তু কারো সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে না। তারপরও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি। গতকাল যখন ঘটনাটি ঘটেছে তখন আমি এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে ঢাকায় একটি বৈঠকে ছিলাম। পরে ঘটনা শুনে দ্রুত সেখানে যাই। লুত্ফুল আজমের দাবি, তিনি গায়ে হাত তোলেননি, শুধু ফাইল ছিঁড়ে ফেলেছেন। তবে একজন রাজস্ব কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তার গায়ে হাত তুলেছেন যুগ্ম-কমিশনার। বিষয়টি তদন্তে আমি একটি কমিটি গঠন করেছি। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপোর একাধিক কর্মী জানান, যুগ্ম-কমিশনার লুত্ফুল আজম গতকাল একজন রাজস্ব কর্মকর্তাকে ডেকে একটি চিঠি তৈরি করে তাকেই স্বাক্ষর করে নির্দেশনা দিতে বলেন। তখন ঐ রাজস্ব কর্মকর্তা যুগ্ম-কমিশনারকে স্বাক্ষর করার অনুরোধ করেন। এরপর তিনি ফাইল তৈরি করে যুগ্ম-কমিশনারের কাছে নিয়ে যান। কেন তিনি স্বাক্ষর না করে তার কাছে ফাইল নিয়ে গেলেন এই কারণে চিত্কার করে ফাইল ছিঁড়ে ফেলেন এবং ঐ কর্মকর্তাকে থাপ্পড় মারেন। কাঁদতে কাঁদতে ঐ কর্মকর্তাকে যুগ্ম-কমিশনারের রুম থেকে বের হতে দেখে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে কাজ বন্ধ করে যুগ্ম-কমিশনারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান দ্রুত কমিশনারকে সেখানে পাঠান। খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাপুলিশও সেখানে যায়। পরে তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে মুক্তি পান লুত্ফুল আজম। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নানা অনৈতিক ফাইলেও তিনি নিজে স্বাক্ষর না করে অন্যদের দিয়ে স্বাক্ষর করান। কথায় কথায় থাপ্পড় মারেন। ফাইল ছিঁড়ে ফেলেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
