নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের দায়ে আদালতের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি নূর হোসেনের প্রভাবশালী হয়ে ওঠার কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ডটি ইজারাবিহীন দখলে রেখেছে তারই দোসর দেলোয়ার হোসেন। গত সাত বছর ইজারা না হওয়ায় সরকার ১ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এদিকে সওজর জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ট্রাকস্ট্যান্ড ঘিরে রয়েছে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য। এ ছাড়াও ট্রাকস্ট্যান্ডের সীমানাপ্রাচীর না থাকায় উত্তর সীমানা দিয়ে সরকারি জমি বেদখলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ১৮টি জেলায় দৈনিক শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ ভ্যান চলাচল করে। উল্লেখিত যানবাহনের বেশির ভাগ চালক বিশ্রাম কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে কাঁচপুর-শীতলক্ষ্যা সেতুর পশ্চিম পাড়ে সড়ক ও জনপথের জমিতে গড়ে ওঠা এই ট্রাকস্ট্যান্ডে তাদের যানবাহন পার্কিং করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করে দেলোয়ার হোসেনের সহযোগীরা। এ ছাড়াও ট্রাকস্ট্যান্ডের পাশে মাদক ও জুয়ার আসর বসিয়ে চাঁদা তুলছে তারা। আলোচিত নূর হোসেনের বাড়ি এই ট্রাকস্ট্যান্ডের পাশে। তিনি আশির দশকে ট্রাকের হেলপার ছিলেন। সিটি করপোরেশন থেকে ২০১৩-২০১৪ সালে ট্রাকস্ট্যান্ডটি ১৪ লাখ টাকায় ইজারা নেন সাত খুনের অন্যতম ভুক্তভোগী প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম। সেই ইজারা দখলে নিয়েছিল নুর হোসেন। কিন্তু ট্রাকস্ট্যান্ডের জমি নারায়ণগঞ্জ বিভাগের সড়ক ও জনপথের হওয়ায় পরবর্তী বছর থেকে সিটি করপোরেশন ইজারা দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজর একটি সূত্র জানায়, সওজের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে প্রতি মাসে মাসোহারা নিয়ে অবৈধভাবে দখলে রাখার সুযোগ করে দিয়েছে দেলোয়ার গ্রুপকে। এ সুযোগে তারা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। ইজারা না হওয়ায় গত সাত বছরে সরকার ১ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
জানা যায়, এখানে কমপক্ষে ৫০০ যানবাহন অবস্থান করে। এসব যানবাহন থেকে প্রশাসন ও নিরাপত্তার কথা বলে প্রতি যানবাহন থেকে ৮০০ টাকা হিসাবে মাসে ৪ লাখ টাকা আদায় করছে তারা। এ ছাড়াও এ ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে দৈনিক যাতায়াত করা দুই শতাধিক যানবাহন থেকে ১৩০ টাকা হারে দৈনিক ২৫ হাজার টাকারও বেশি চাঁদা আদায় হচ্ছে। এ হিসাবে মাসে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। এর পাশাপাশি শীতলক্ষ্যা নদীর তীর থেকে বালু ও পাথর বহনকারী প্রতি ট্রাক থেকে দৈনিক ১০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় হচ্ছে। সওজের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় দেলোয়ার হোসেন সরকারি দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতা ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজন ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। দেলোয়ার হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, একটি মহল অপপ্রচার চালিয়ে তাকে হেয় করতে চাইছে। সওজর নারায়ণগঞ্জ বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, লিজের জন্য আবেদন করলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এমএএম
