বুয়েন্স এইরেস থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম।
দুই গোলার্ধের দুটি ভিন্ন জায়গাই শুধু নয়, ডিয়েগো ম্যারাডোনার চিরবিদায়ে গোটা পৃথিবীর অলি-গলিতে চলছে শোকের মাতম। বুধবার হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ফুটবলার। বর্ণিল ক্যারিয়ারে ফুটবল জাদুতে এই গ্রহের অগুনিত ভক্তকে মোহবিস্ট করে রেখেছিলেন ‘ফুটবল ঈশ্বর’ খ্যাত ম্যারাডোনা।
নশ্বর পৃথিবী ছাড়লেও তার প্রেমে মজে থাকা ভক্তকুলের মোহমুক্তি হয়নি। বাংলাদেশে পা না পড়লেও এই ব-দ্বীপের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হূদয়ের হিরো তিনি। তার প্রয়াণে শোকের ঢেউয়ে ভাসছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। ফুটবল নক্ষত্র, ক্রীড়াঙ্গনের এই সুপারস্টারের প্রতি শ্রদ্ধাবনত এখন পুরো পৃথিবী। তার আত্মার শান্তি কামনার মিছিলে গতকাল শামিল হলো মিরপুর স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচা। গতকাল প্রথম ম্যাচের পর ম্যারাডোনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপের চারটি দল।
জেমকন খুলনা, বেক্সিমকো ঢাকা, মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী ও গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের ক্রিকেটার, কোচ, কর্মকর্তাসহ স্টেডিয়ামে উপস্থিত সবাই অংশ নেন। ভিআইপি স্ট্যান্ডের ওপরে থাকা বড় পর্দায় দেখানো হয় ম্যারাডোনাকে নিয়ে বানানো ভিডিও চিত্র। পর্দায় ভেসে উঠে ‘লেজেন্ডস নেভার ডাই, ইউ উইল বি রিমেমবারড’ লেখা। পাশেই ছিল বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ম্যারাডোনার শাশ্বত সেই ছবি।
আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আগে গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে খুলনাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে রাজশাহী। টুর্নামেন্টে নাজমুল হোসেন শান্ত বাহিনীর এটি টানা দ্বিতীয় জয়। বেক্সিমকোর পর খুলনাকেও আটকে দিল রাজশাহী।
টসে জিতে আগে ব্যাট করা খুলনা ৬ উইকেটে ১৪৬ রানের পুঁজি গড়ে। ৫১ রানে ৫ উইকেট পতনের পর শামীম পাটোয়ারি ও আরিফুল হকের ব্যাটে ১০০ পার হয় খুলনার স্কোর। আরিফুল অপরাজিত ৪১, শামীম ৩৫, বিজয় ২৬ রান করেন। রাজশাহীর মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ২টি উইকেট নেন। জবাবে ১৭.২ ওভারেই ৪ উইকেটে ১৪৭ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় রাজশাহী।
অধিনায়ক শান্ত সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পান তিনি। রনি তালুকদার ২৬, ফজলে রাব্বি ২৪ ও আশরাফুল অপরাজিত ২৫ রান করেন। খুলনার রিশাদ ২টি উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা : ২০ ওভারে ১৪৬/৬
রাজশাহী : ১৭.২ ওভারে ১৪৭/৪
ফল : রাজশাহী ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা : নাজমুল হোসেন শান্ত (রাজশাহী)
