সুতিয়ার খাল সবার জন্য ব্যবহারের দাবিতে শত শত মানুষ সম্প্রতি নালিতাবাড়ী শহরে এসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ‘সুতিয়ার খাল ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে দখলদারদের নিবন্ধন বাতিলেরও দাবি জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। সুতিয়ার খালের দখল নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাবেক কৃষিমন্ত্রী এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরীর অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় ২০০৯ সালে জাইকা এবং এলজিইডির অর্থায়নে রামচন্দ্রকুড়া, কাকরকান্দি ও নালিতাবাড়ী এই তিন ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের ৮১০টি পরিবারের প্রায় দেড় হাজার উপকারভোগী নিয়ে সুতিয়ার খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড গঠন করা হয়। ২০১১ সালের পহেলা মার্চ ৭৬১ জন সদস্য সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক সমিতি নিবন্ধনপ্রাপ্ত হয়। ২০১৪ সালে খালটি কৃষিকাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে ভোগাই নদীর সঙ্গে মাটির নিচ দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে খালের সংযোগ স্থাপন করা হয়। ফলে খালটিতে প্রাণ ফিরে আসে এবং আরো গতি আনতে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে পুনঃখনন করা হয়। এতে করে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় হয় সরকারের। পরবর্তীতে সেচ কাজের পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মাছ চাষ উপকমিটি, কৃষি-উপকমিটি, রক্ষণাক্ষেণ উপকমিটিসহ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়। গত বছর মত্স্য উপকমিটি ‘সুতিয়ার খাল মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি’ নামে সমবায় অধিদপ্তর থেকে আলাদা নিবন্ধন নেয়। এরপরই তারা ঐ খালে মাছ চাষ শুরু করে। মানুষ আগে প্রাকৃতিকভাবে খালে থাকা মাছ ধরত। তারা সেটি বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ, এভাবে খালটি কতিপয় ব্যক্তির অধীনে চলে যায়। এই নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশে রূপ নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কয়েকদিন আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বিক্ষোভ করে মানুষ।
সুতিয়ার খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, ৭৬১ জন সদস্যের নামে এতদিন খালটি পরিচালিত হয়ে আসলেও গোপনে সুতিয়ার খাল মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি নামে আলাদা নিবন্ধন দেওয়া হয়। আগে খালটিতে মাছ ধরাসহ সকলে দৈনন্দিন কাজ করত। কিন্তু বর্তমানে কতিপয় লোক খালটি দখল করে গোসল করা এমনকি হাঁস নামা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে নতুন নিবন্ধন নেয় সুতিয়ার খাল মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হারুন অর-রশিদ বলেন, আমরা কাউকে খাল ব্যবহারে বাধা দেইনি। শুরু থেকেই এ প্রকল্পে মাছ চাষ করার কথা উল্লেখ থাকলেও তা করা হয়নি। আমরা এ বছর খালে মাছ চাষ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। খালে নামতে কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলমের কার্যালয়ে গেলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সুতিয়ার খাল রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এই খাল কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। কেউ যদি মাছ ছাড়তে চায়, তবে খাল ব্যবহারে কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না। উম্মুক্ত ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বাদল বলেন, আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি খোঁজ খবর রাখছি। যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে।
