পাঁচবিবিতে হঠাত্ বন্ধ সমবায় সমিতি!

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩০

পাঁচবিবিতে গ্রামীণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লি. নামের একটি বেসরকারি সংস্থা হঠাত্ বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কয়েক শ গ্রাহক। তবে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বলছে, সমিতির বিষয়টির তদন্ত চলছে, তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীরা জানান, মাসে উচ্চ লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে গ্রামীণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লি. শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে স্থায়ী আমানত গ্রহণ করে। সম্প্রতি কিছু গ্রাহক দীর্ঘ দিন আমানত রাখা টাকা ফেরত চায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ নভেম্বর থেকে ঐ সমিতির সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রলাল রবিদাসকে (৫৫) খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেন।

গ্রাহকদের অভিযোগে জানা গেছে, অভিযুক্ত চন্দ্রলাল রবিদাস শহরের কৃষি ব্যাংক মোড়সংলগ্ন আনজু ট্রেড সেন্টার ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২০১৩ সালে অফিস ভাড়া নিয়ে সমিতির (নিবন্ধন নং ৫৪৯/১২) কার্যক্রম শুরু করেন। ঐ ভবনের মালিক সুহেল বাবু জানান, প্রায় সাত-আট বছর আগে দোতলায় অফিসটি ভাড়া নেন হরেন চন্দ্র নামের ব্যক্তি। হঠাত্ তিনি শুনেন অফিসে তালা লাগিয়ে কর্মকর্তারা উধাও হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, গত মার্চ মাস থেকে ঐ ফ্লোরের ভাড়াও বকেয়া আছে।

এ সমিতির মাঠ কর্মকর্তা উপজেলার ঢাকারপাড়া গ্রামের রাশেদ মণ্ডল জানান, সে ও তার স্ত্রী ১০ লাখ টাকা জামানত দিয়ে মাসে ২২ হাজার টাকা বেতনে সেখানে চাকরি নেন। এছাড়াও উক্ত মাঠকর্মী নিজের নামে ৪ লাখ এবং তার স্ত্রীর নামেও ৩ লাখ টাকা সঞ্চয় রাখেন। গত মার্চ থেকে বেতন ও লাভের টাকা দেয়নি ঐ কর্মকর্তা। অপর মাঠকর্মী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা শুধু মাঠ পর্যায়ে সঞ্চয় ও ঋণ আদায় করতেন আর এফডিআরের সঞ্চয়গুলো ম্যানেজার চন্দ্রলাল বাবু নিজে আদায় করতেন। তিনি আরো বলেন, কর্মকর্তা আমাদের পাঁচ-ছয় মাস ধরে বেতনও দেননি।

পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, গ্রামীণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লোকজনের টাকা আত্মসাত্ করেছে এমন অভিযোগ তার কাছে এসেছে। তিনি তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।ঐ সমিতির সভাপতি শ্রী হরেন চন্দ্র বলেন, ‘আমি বিগত ২০১৬ সালে সমিতি থেকে বের হয়ে এসেছি। আমি এর কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নই।’ অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে এখনো সভাপতি আছি এটি সমবায় অফিস ও তার কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।’ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা লুত্ফুল কবীর সিদ্দিকী বলেন, গ্রামীণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লি. নামের একটি সমিতি বন্ধের অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। এর তদন্ত চলছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।