জীবননগরে খেজুরের রস আহরণে ব্যস্ত গাছিরা

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩০

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে বইছে শীতের আমেজ। এ সময়টায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস আহরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গাছিরা। চলছে খেজুরগাছ চাচা-ছোলার কাজ। শীতের দিন মানেই গ্রামাঞ্চলে খেজুরের রস ও নলেন গুড়ের মৌ মৌ গন্ধ। শীতের সকালে খেজুরের তাজা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে শেষ করা যায় না। আর খেজুর রসের পিঠা-পায়েস খুবই মজাদার। শুধু খেজুরের রসই নয়, এর থেকে তৈরি হয় সুস্বাদু পাটালি, গুড় ও প্রাকৃতিক ভিনেগার। উপজেলার রায়পুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঈশ্বরদী, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা ও জীবননগর, ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর, খালিশপুর ও কালীগঞ্জ এবং যশোর জেলা খেজুর রস ও গুড়ের জন্য বিখ্যাত। তিনি জানান, গুড় উত্পাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড় আজ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কারণ এক কেজি গুড় তৈরি করতে শ্রম ও জ্বালানিসহ গাছিদের খরচ হয় ৬০-৬৫ টাকা। আর প্রতি কেজি গুড় বর্তমান বাজারে বিক্রি হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এ কারণে গাছিরা গুড় বানাতে নিরুত্সাহিত হচ্ছেন। এছাড়া আগের মতো খেজুরগাছ আর নেই। প্রতিদিন ইটভাটায় জ্বালানির কাজে নিধন হচ্ছে এলাকার শত শত খেজুরগাছ।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী হাসান জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬০টি খেজুরের গাছ আছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৯৩ হাজার ৪৫০টি গাছ, দামুড়হুদা উপজেলায় ৮৩ হাজার ৭০০টি, জীবননগর উপজেলায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩৫ হাজার ৩১০টি খেজুরগাছ আছে। যা থেকে এ বছর ২ হাজার ৫০০ টন গুড় উত্পাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।