দক্ষিণ আফ্রিকায় পাকিস্তানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩৮

পাকিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ডার্বানে বেশ কয়েকটি মোবাইল ব্যানার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের মুম্বাইয়ের জঘন্যতম সন্ত্রাসী হামলার দ্বাদশ বার্ষিকীর আগেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এমন প্রতিবাদ জানালো দক্ষিণ আফ্রিকা।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ পোস্টারে লেখা ছিল 'পাকিস্তানের মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে মুক্ত বেলুচিস্তান' অন্য একটি পোস্টারে লেখা ছিল 'পাকিস্তানের হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাঁচান'।

পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতা এখন পুরো  বিশ্বব্যাপী পরিচিত। দেশটিতে সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমাগত হামলা বিভিন্ন ধরণের সহিংসতা, গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, ধর্ষণ, জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে।

২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার শোক অনেকেই ভুলতে পারেননি আজও। হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন নারী সহ ১৬৬ জন মানুষ। বিকলাঙ্গ হয়েছে ৪৬ নারী ও ১৩ শিশু-সহ ১৭৯ জন।

এই ভয়াবহ আক্রমণে ৯ জন সন্ত্রাসী ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিল এবং আজমল আমির কাসাব নামে এক জঙ্গিকে ধরা হয়েছিল। ২০১২ সালে পুনের ইয়ারওয়াদা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

সংবাদ মাধ্যম দি পোস্টের বরাতে জানা যায়, লস্কর-ই-তৈয়বার সন্ত্রাসীরা পাকিস্তান থেকে সমুদ্রপথে মুম্বাই যায়। কাসাব ও আরেক সন্ত্রাসী ইসমাইল খান প্রথমে রেলস্টেশনে ধারাবাহিকভাবে গুলি ও বোমা হামলা চালিয়ে প্রথমে একটি ব্যবসায়িক কমপ্লেক্সে যায়, এবং তারপরে তাজমহল প্রাসাদ নামক হোটেলে তৃতীয় হামলা চালায়।

এই হামলার পর থেকে ভারত সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সামাজিক সংস্থা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ আফ্রিকা (আইএএসএ) এর আয়োজনে গত রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার ডার্বানে এক শান্তি প্রার্থনায় ২০০৮ সালের ভয়াবহ হামলার শিকারদের সম্মান জানানো হয়।  

১৯ নভেম্বর, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আদালত মানি লন্ডারিং মামলায় মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদকে দশ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে এবং তার সম্পত্তিকে পুরোপুরি বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়। এপি।

ইত্তেফাক/এএইচপি