না.গঞ্জে জরুরি পাসপোর্ট মেলে না তিন মাসেও

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২০, ২২:০৫

নতুন কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস গেলেও গ্রাহকদের ভোগান্তির শেষ নেই। আর ভোগান্তির মূলে শক্তিশালী দালালচক্র। দালাল মিললে সহজেই মিলবে পাসপোর্ট। অন্যথায় সঠিক নিয়মে দুঃসহ ভোগান্তি। এ ছাড়া জরুরি পাসপোর্টও মিলছে না সঠিক সময়ে। জরুরি ক্ষেত্রে সাত দিনের মধ্যে পাসপোর্ট গ্রাহকের হাতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও পুলিশ ভেরিফিকেশনেই কেটে যায় বহু দিন। শুধু কি তাই? অদক্ষ কম্পিউটার অপারেটরদের দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করানোর ফলে প্রায় সময়ই পাসপোর্টে উঠে আসছে ভুল তথ্য। ফলে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে পাসপোর্ট সংশোধন করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এতে সময়ও ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত। এমন ভোগান্তি সত্ত্বেও বর্তমানে প্রকাশ্যে এসেছে পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত স্টাফদের দুর্ব্যবহার। গ্রাহকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে থাকেন অফিস সহকারী থেকে শুরু করে কর্মকর্তারাও। সম্প্রতি আজমল নামে এক গ্রাহক অফিস সহকারী মহসিনের দুর্ব্যবহারের শিকার হন। ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙে আজমলের। বিরক্ত হয়ে কাউন্টারের গ্লাসই ভেঙে ফেলেন তিনি। এতে আহত হন অফিস সহকারী। যদিও গ্রহাক আজমল বলেন, এমন ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না তিনি। স্টাফদের দুর্ব্যবহারেই চটেছিলেন। এতেই বাধে বিপত্তি। ঘটনার সূত্রপাত যে কারণেই হোক, আসামি হয়ে শ্রীঘরে যেতে হয়েছে ঐ গ্রাহককে। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে রয়েছে একটি শক্তিশালী দালালচক্র। এই চক্রের হোতা স্থানীয় কাউন্সিলরের ভাই আলমগীর। এর আগে র্যাবের সিনিয়র এএসপি আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয় পাসপোর্ট অফিসে। সেই অভিযানে দালালচক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের পর কিছুটা কমেছিল দালালচক্রের দৌরাত্ম্য। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, দ্রুত পাসপোর্ট দেওয়ার নাম করে দালালরা হাতিয়ে নেয় দুই গুণেরও বেশি অর্থ। প্রায় সময়ই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর আর খুঁজে পাওয়া যায় না দালালদের। ডেলিভেরি স্লিপের ফটোকপি গ্রাহকের হাতে দিয়ে পরবর্তীকালে মূল স্লিপের জন্য অধিক অর্থ দাবি করে কেউ কেউ। এরপর পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে দালালদের পেছনে ছুটতে হয় গ্রাহকদের। গ্রাহকদের আরো অভিযোগ, দালালদের সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের সখ্য রয়েছে। দালালদের প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ পান অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর তাই, এসব দালালদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগও নিতে দেখা যায় না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। অভিযোগ রয়েছে, সঠিক নিয়মে গ্রাহকদের সেবা দিতে অনীহা অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। গ্রাহকরা বলেন, ‘জরুরি পাসপোর্ট করতে ব্যাংকে যে টাকা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে আমরা তাই দিচ্ছি। জরুরি পাসপোর্ট পেতে টাকা দিতে হয় ৬ হাজার ৯০০ টাকা ভ্যাটসহ ৭ হাজার। ডেলিভারি দেওয়ার কথা সাত দিনে। কিন্তু সেই পাসপোর্ট ৯০ দিনেও পাওয়া যায় না।’ এমন সব ভোগান্তির বিষয়ে অস্বীকৃতি জানান নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিসের কারো সঙ্গে দালালদের সখ্য নেই। তাই দালাল থাকলে বাইরে, অফিসে নয়।’