করোনা মহামারি ও নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে যে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা আবারও জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা একে-অন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছি না। আমাদের লড়াই করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে।’ ‘থ্যাংকস গিভিং’ ছুটির প্রাক্কালে ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অন্যদিকে এই বিশেষ দিনে হোয়াইট হাউজের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে ক্ষমা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর বুধবার এক অনুষ্ঠানে নিজেকে আবারও বিজয়ী দাবি করেছেন তিনি। খবর সিএনএন, বিবিসি ও আলজাজিরার। বাইডেন বলেন, ‘মার্কিনিরা নির্বাচনের ফল উলটে দেওয়ার পক্ষে দাঁড়াবেন না। মার্কিনিরা সম্পূর্ণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং পরে আমরা এর ফলকে সম্মান করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি জানি, দেশের লড়াইয়ে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। তবে মনে রাখতে হবে, আমরা ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করছি, একে অপরের বিরুদ্ধে নয়।’ তিনি করোনায় স্বজনহারাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে জেতার পর উইলমিংটনেই ‘বিজয়ী ভাষণে’ বাইডেন বলেছিলেন, ‘নীল (ডেমোক্র্যাট), লাল (রিপাবলিকান) বিভাজন মিটিয়ে এবার আমরা ঐক্যবদ্ধ আমেরিকাকে দেখতে চাই। কেউ কারো শত্রু নই। আমাদের পরিচয়, আমরা আমেরিকান।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে ক্ষমা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের সাবেক এই সহযোগীকে ক্ষমা ঘোষণা করেন তিনি। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘জেনারেল মাইকেল ফ্লিনকে সম্পূর্ণভাবে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। এটি ঘোষণা করা আমার জন্য সম্মানের বিষয়। জেনারেল ফ্লিন ও তার চমত্কার পরিবারকে অভিনন্দন। আমি জানি, আপনি এখন সত্যিই দুর্দান্ত থ্যাংকস গিভিং পাবেন! ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্তে এফবিআইকে মিথ্যা বলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন মাইকেল ফ্লিন। ২০১৭ সালে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। এরপর কয়েক দফায় তার সাজা ঘোষণা পেছানো হয়।
নির্বাচনে হারার পর ক্ষমতা ছাড়ার আগেই ফ্লিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা ঘোষণা করলেন ট্রাম্প। রয়টার্স বলছে, মাইকেল ফ্লিন শেষ পর্যন্ত ক্ষমা পেলে এটিই হবে ট্রাম্পের ক্ষমা পাওয়া সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি। সাংবিধানিকভাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ক্ষমা করার অধিকার আছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আট বছরে ২১২ জনকে ক্ষমা করেছিলেন। চার বছরে ট্রাম্প ক্ষমা করেছেন ২৮ জনকে। বুধবার হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে ফ্লিনকে একজন ‘নিরপরাধ ভুক্তভোগী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রকাশ্যে নিজেকে আবারও জয়ী দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে পেনসিলভেনিয়ার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনে বিপুল জালিয়াতি হয়েছে। আমাদের এই নির্বাচনকে উলটে দিতে হবে। আমরা বিপুল ব্যবধানে জিতেছি। আমরা পেনসিলভেনিয়ায় জিতেছি, সব সুইং স্টেটেও জিতেছি। ঐ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সশরীরে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু তার আইনজীবী রুডি জুলিয়ানির দুই সহযোগী করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ট্রাম্প যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন। প্রসঙ্গত, পরাজয় স্বীকার না করলেও ট্রাম্প ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হয়েছেন। ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আগামী ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বাইডেন।
