সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। এই মামলার তিন আসামির পক্ষে শুনানি করেন তাদের আইনজীবী। গতকাল বৃহস্পতিবার আংশিক শুনানি শেষে আগামী ২ ডিসেম্বর পরে শুনানির জন্য দিন ধার্য রেখেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ।
গতকাল আদালতে হত্যা মামলার আসামি নিহত সগিরা মোর্শেদের ভাশুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন, হাসান আলীর শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী। তিনি অভিযোগ গঠন থেকে আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন।
এহসানুল হক সমাজী বলেন, প্রথমত, পূর্ববর্তী বিচারে এই মামলায় বাদীসহ সাত জন সাক্ষ্য দেন। এই আসামিদের নাম তাদের বক্তব্যে আসেনি। ঐ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে যে অধিকতর তদন্ত ও সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের যে আদেশ দেন সেটি আইনসিদ্ধ হয়নি। দ্বিতীয়ত, ডা. হাসান ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে নেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নেওয়াটা ছিল ত্রুটিপূর্ণ। কারণ একই সময়ে দুই জনকে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য একই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয় এবং খুব স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এটা আইনসিদ্ধ হয়নি। এছাড়া আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। তৃতীয়ত, এই আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারাসহ অন্য কোনো অভিযোগের গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। তাই আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার যৌক্তিক কোনো কারণ বিদ্যমান নেই।
এদিকে মামলার অন্যতম আসামি মারুফ রেজার আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান অব্যাহতির আবেদনের ওপর শুনানির জন্য সময় আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
প্রসঙ্গত ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে গিয়ে খুন হন। পরে মিন্টু নামে এক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। দীর্ঘদিন হাইকোর্টের আদেশে মামলার বিচার কাজ বন্ধ ছিলো। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৮ বছর পর ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় হাইকোর্ট। নতুন তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। ওই তদন্তে সগিরা মোর্শেদের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী (৭০), তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন (৬৪), শাহিনের ভাই আনাছ মাহমুদ রেজওয়ান (৫৯) ও মারুফ রেজাকে (৫৯) অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। এতে দেখা যায়, স্বজনদের পরিকল্পনাতেই খুনের শিকার হন ওই নারী। আর সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে খুন করেন এই মারুফ রেজা।
