তুরস্কে ২০১৬ সালে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে সেনা কর্মকর্তা ও পাইলটসহ ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৫০০ জনকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে ৩৩৭ জনই পাইলট। ঐ ব্যর্থ অভ্যুত্থানে আড়াই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার
গতকাল ৪৭৫ জনের বিরুদ্ধে বিচার হয়, যাদের মধ্যে ৩৬৫ জন আটক আছেন। আকিন্সি বিমান ঘাঁটি থেকে জড়িতরা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করেছিলেন। তারা পার্লামেন্টসহ সরকারি ভবনে বোমা হামলা করেছিলেন এবং রেসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত অনেক সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফেতুল্লাহ গুলেনই এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু গুলেন বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে আসছেন। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, মূল নেতা ছিলেন যারা বেসরকারি ইমাম ছিলেন। তাদের সঙ্গে গুলেন নেটওয়ার্কের যোগসাজস রয়েছে। প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা এবং সাংবিধানিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টার অভিযোগে ৭৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। বার্তা সংস্থাটি জানায়, বেশির ভাগেরই যাবজ্জীবন হয়েছে। কেবল অভ্যুত্থানে সহায়তা করার অভিযোগে এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হওয়ায় ৪১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৭০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আনাদোলু জানায়, ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই ব্যর্থ অভ্যুত্থান এবং গুলেনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে ২ লাখ ৯২ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। প্রায় ১ লাখ মানুষকে কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে, যারা বিচারাধীন অবস্থায় আটক আছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সোয়েলু জানান, দেড় লাখ নাগরিককে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ২০ হাজার জনকে। এর মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গুলেনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার জন্য এখনো অনেককে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
