ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজা হয়েছিল ধর্ষক আলম মুন্সীর। ২০ বছর ধরে আছে কারাগারে। অবশিষ্ট সাজা ভোগ না করার জন্য আবেদন জানিয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার ঐ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে আসামি আলম মুন্সীকে যাবজ্জীবনের অবশিষ্ট সাজা ভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ ও আসামিপক্ষে ড. বশির আহমেদ শুনানি করেন।
বিশ্বজিত দেবনাথ ইত্তেফাককে বলেন, এই মামলায় হাইকোর্টের রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলা হয়েছিল যে আমাদের দেশে বিদ্যমান সমাজব্যবস্থায় একজন বিবাহিত নারী যখন কোর্টে দাঁড়িয়ে একজন ধর্ষককে চিহ্নিত করে বলেন যে ঐ ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেছে, তখন ধরেই নিতে হয় তিনি মিথ্যা কথা বলছেন না। কারণ আমাদের সমাজব্যবস্থা ধর্ষণের শিকার নারীকে অনেক সময় বাঁকা চোখে দেখে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যবেক্ষণের বিষয়টি আপিল বিভাগের শুনানিতে পেশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই মামলায় ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী ও তার দুজন নিকটাত্মীয় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে দুজন চাক্ষুস সাক্ষী ছিলেন। ছিল মেডিক্যাল রিপোর্ট। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল আসামিকে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানার চরপাড়া গ্রামে এক নারীকে ধর্ষণ করে আসামি আলম মুন্সী। পরদিন এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় মামলা করেন ঐ নারী। এই মামলায় ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালত-২ আলম মুন্সীকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়।
