মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের অদূরেই বাস করেন নিক ড্রামোন্ড ও প্যাট্রিক বেকার দম্পতি। তারা যে বাড়িটিতে বাস করেন তা শতাব্দী পুরনো। বাড়িটিকে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন গল্পও আছে। সে গল্পই যেন সত্যি হয়ে গেলো। বাড়ির মেঝে ও দেয়াল মেরামতের সময় এই দম্পতি শতাব্দী পুরনো ৬৬টি মদের বোতল উদ্ধার করেছে।
সিএনএনের বরাতে জানা যায়, বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে ১৯১৫ সালে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মদ ও মদ্যজাত পণ্য বহন এবং উৎপাদন নিষিদ্ধের সময় এসব বোতল সংরক্ষণ করা হয়েছে। ১৯২০ সাল থেকে ১৯৩৫ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত ছিল।
এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন জার্মান নাগরিক এডলফ হালফনার। একজন চোরাচালানকারী হিসেবে তার বেশ সুখ্যাতি ছিল। নিষিদ্ধ যুগের সময় মদের সরবরাহ অব্যাহত রাখতেই নিজ বাড়িতে একটি সংরক্ষণাগার গড়ে তুলেন তিনি।
শতাব্দী পুরনো এসব বোতল আবিষ্কার প্রসঙ্গে নিক বলেন, আমার বাড়ির দেয়াল ও মেঝে মদের বোটল দিয়ে পরিপূর্ণ। সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য একট্যি ঘটনা। এখানে আসার আগে এই বাড়ি নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি। সব সত্যি হয়ে গেলো।
তিনি বলেন, মেঝের মেরামত করতে গিয়ে হঠাত একটি হ্যাচ কাভার দেখতে পাই। সেখানে প্রবেশ করার পর মেঝের নীচে বড় একটি প্যাকেট খুঁজে পাই। কৌতূহল নিয়ে সেটি বের করে খুলে দেখি এর ভেতর ৬টি মদের বোতল। বোতলগুলো কাগজে মুড়নো ছিল। পরে দেয়ালে আরো বেশ কিছু প্যাকেট উদ্ধার করি। এখন পর্যন্ত আমরা ৬৬টি বোতল উদ্ধার করেছি।
সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিক বলেন, বোতলগুলো স্কটিশ উইসকি কোম্পানির। সেগুলোর গায়ে 'ওল্ড স্মাগলার গায়েলিক উইসকি' লেবেল লাগানো। মজার বিষয় হচ্ছে কোম্পানিটি এখনও মদ প্রস্তুত করে।
ইতোমধ্যে এই ঘটনা নিয়ে নিউ ইয়র্জে হই হুল্লোড় পরে গেছে। স্থানীয়দের আগ্রহ থাকায় নিক ড্রামোন্ড ও প্যাট্রিক বেকার দম্পতি উদ্ধারকৃত বোতলগুলো বিক্রির সিদ্ধানত নিয়েছেন। তাদের ধারণা প্রতিটি বোতল তারা ১ হাজার ডলারে বিক্রি করতে পারবেন।
ইত্তেফাক/টিআর
