চোখের জলে ম্যারাডোনাকে শেষ বিদায়

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫৭

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

বাংলাদেশের সাবেক আর্জেন্টাইন কোচ আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির সহকারী আরিয়েল কোলম্যান তার ফেসবুকে একটি ছবি দিয়েছেন। ম্যারাডোনার বাবা-মা দুই হাত বাড়িয়ে তাকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছেন। ১০ নম্বর জার্সি গায়ে ম্যারাডোনা এগিয়ে যাচ্ছেন তার বাবা-মায়ের দিকে। এমন একটি প্রতীকী ছবি দেখা গেছে। আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্সের বেল ভিসতা সিমেট্রিতে বাবা-মায়ের পাশেই ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে সমাহিত করা হয়েছে।

ফুটবল পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিভাধর ছিলেন ম্যারাডোনা। তার মতো এমন খেলোয়াড় আর কোনো দিন পাওয়া যাবে না। ১০০ বছরেও এমন ফুটবলারের দেখা পাওয়া যাবে না। বাম পায়ের অসাধারণ নৈপুণ্য ফুটবল দুনিয়াকে মোহিত করে রেখেছিল। এক পায়ের জাদুতে বিশ্ব জয় করেছেন যিনি তিনি কাল আর্জেন্টিনায় কফিনের ভেতরে শুয়ে সিমেট্রিতে গেলেন। তার শেষ যাত্রায় আর্জেন্টিনার মানুষের ঢল নেমে ছিল। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট প্যালেসের সামনে লাখো মানুষের ঢল সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ বেষ্টনী ভেঙে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে ভক্তদের মারামারি হয়েছে। পুলিশ জলকামান ব্যবহার করেছে। গুলি ছুড়েছে। সমর্থকদের ঠেকাতে গিয়ে ধস্তাধস্তি হয়েছে পুলিশের। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট প্যালেসে ম্যারাডোনাকে শেষ দেখা দেখতে দেওয়া হয়নি। দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থেই এমনটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দ্রুতই সমাহিত করার জন্য ম্যারাডোনার পরিবার হতেই বলা হয়।

ম্যারাডোনা গত বুধবার আর্জেন্টিনার সময় দুপুরে হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান। ফুটবল দুনিয়া এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না তার মৃত্যু। ভক্তরা এখনো মনে করছেন ৬০ বছর কী-ই বা বয়স। বাংলাদেশের মানুষও তার জন্য কাঁদছে। কাঁদবেই না কেন। ৮৬ সালে প্রথম টিভির পর্দায় মেক্সিকো বিশ্বকাপ ফুটবল সরাসরি দেখার স্বাদ পায়। এ দেশের মানুষ রাত জেগে খেলা দেখেছিল। তার আগেই তরুণ ফুটবলার ম্যারাডোনার নামডাক দুনিয়া জেনে যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবলপ্রিয়রা দেখার সুযোগ পেতেন বিটিভির কল্যাণে, রেকর্ডকৃত খেলা দেখে। ’৮৬-তে বাংলাদেশের দর্শক ম্যারাডোনার খেলা দেখে ম্যারাডোনাকে বুকে ধারণ করতে শুরু করে। ম্যারাডোনাকে এ দেশের মানুষ আবেগের জায়গায় তুলে রেখেছেন। আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে নিয়েছেন। ম্যারাডোনা যেন পাশের বাড়ির সন্তান। ফুটবল বলতেই ম্যারাডোনাকে বুঝতেন সবাই। ’৯৪ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনাকে খেলা শেষে ডোপ টেস্টের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরে যখন জানিয়ে দেওয়া হলো ম্যারাডোনা খেলতে পারবে না তখন ম্যারাডোনা ভক্তরা কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। সেই ম্যরাডোনা কাল চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাবা-মায়ের পাশে। তাকে সিমেট্রিতে নিয়ে যাওয়ার সময় পথে পথে মানুষের ভিড় জমে। পতাকা হাতে, ম্যারাডোনার জার্সি গায়ে, ছবি হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সম্মান দিয়েছেন, চোখের জলে বুক ভাসিয়েছেন দর্শক।